বাক্যের রূপান্তর বা বাক্য পরিবর্তনের পদ্ধতি

Submitted by Nandarani Pramanik on Fri, 10/25/2019 - 11:06

বাক্যের রূপান্তর বা বাক্য পরিবর্তনের পদ্ধতি :-

বিশেষভাবে মনে রাখতে হবে যে বাক্য পরিবর্তনে ভাষারীতি ও ক্রিয়ার কালের কোনো পরিবর্তন হবে না ।

(১) সরল বাক্য থেকে জটিল বা যৌগিক বাক্যে পরিবর্তনের কয়েকটি নিয়ম বা বৈশিষ্ট্য আছে । সেগুলি হল—

(ক) সরল বাক্যের অসমাপিকা ক্রিয়া যৌগিক ও জটিল বাক্যে সমাপিকা ক্রিয়ায় পরিণত হবে । যেমন —

* সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্যে রূপান্তর —

(i) মন দিয়ে পড়লে পাস করবে (সরল বাক্য) । যদি মন দিয়ে পড়, তবে পাস করবে (জটিল বাক্য) ।

(ii) নতুন মেসোকে দেখে তপনের জ্ঞানচক্ষু খুলে গেল (সরল বাক্য) । যখন নতুন মেসোকে দেখল তখন তপনের জ্ঞানচক্ষু খুলে গেল (জটিল বাক্য) ।

* সরল থেকে যৌগিক বাক্যে রূপান্তর —

(i) আকাশে মেঘ থাকলেও বৃষ্টি হচ্ছে না (সরল বাক্য) । আকাশে মেঘ আছে কিন্তু বৃষ্টি হচ্ছে না (যৌগিক বাক্য) ।

(ii) ধনী হলেও তাঁর অহংকার নেই (সরল বাক্য) । তিনি ধনী ছিলেন, তবু তাঁর অহংকার নেই (যৌগিক বাক্য) ।

(২) জটিল বা যৌগিক বাক্য থেকে সরল বাক্যে রূপান্তরের নিয়ম :-

জটিল বা যৌগিক বাক্যে যে সমাপিকা ক্রিয়াগুলি থাকে তার মধ্যে প্রধান সমাপিকা ক্রিয়াকে রেখে বাকি ক্রিয়াগুলিকে অসমাপিকা ক্রিয়ায় পরিণত করতে হবে । যেমন —

(i) তিনি দরিদ্র ছিলেন কিন্তু তিনি সৎ ছিলেন (যৌগিক বাক্য) । তিনি দরিদ্র হলেও সৎ ছিলেন (সরল বাক্য) ।

(ii) যখন তুমি ফিরবে তখন তোমায় টাকা দেব (জটিল বাক্য) । তুমি ফিরলে পর তোমাকে টাকা দেব (সরল বাক্য) ।

(iii) যিনি তপনের নতুন মেসো মশাই তিনি একজন লেখক (জটিল বাক্য) । তপনের নতুন মেসো মশাই একজন লেখক (সরল বাক্য) ।

(iv) ওঁর শান্ত গলা শুনে ওদের চিন্তা হল (সরল বাক্য) । ওঁর শান্ত গলা শুনল এবং ওদের চিন্তা হল ( যৌগিক বাক্য ) । যখন ওঁর শান্ত গলা শুনল তখন ওদের চিন্তা হল ( জটিল বাক্য ) ।

♦ অর্থগত শ্রেণীবিভাগের ক্ষেত্রে বাক্যের পরিবর্তন :-

এক্ষেত্রেও মনে রাখতে হবে বাক্যের অর্থের কোনো পরিবর্তন করা যাবে না, ভাষারীতির পরিবর্তন হবে না এবং ক্রিয়ার কালের ও পরিবর্তন হবে না । এখন বাকি নিয়মগুলি কি আছে তা দেখা যাক ।

(১) ইতিবাচক বাক্য থেকে নেতিবাচক বাক্যে রূপান্তর —এক্ষেত্রে নেতিবাচক বাক্যে না, নয়, নহে ইত্যাদি শব্দ ব্যবহার করা হয়, আর ইতিবাচক বাক্যের ক্ষেত্রে বিপরীত শব্দের ব্যবহার হয় । যেমন—

(i) তোমার আগে আসা উচিত ছিল (ইতিবাচক বাক্য) । তোমার দেরি করে আসা উচিত হয়নি (নেতিবাচক বাক্য) ।

(ii) এ জগতে কেউ অমর নয় (নেতিবাচক বাক্য) । এ জগতে সকলেই মরণশীল (ইতিবাচক বাক্য) ।

(২) নির্দেশক বাক্য থেকে প্রশ্নবাচক বাক্যে পরিবর্তন— এক্ষেত্রে বাক্যটি ইতিবাচক থাকলে নেতিবাচক বাক্যে রূপান্তর করতে হবে এবং প্রশ্নসূচক শব্দ কী, কি, কে, কেন ইত্যাদি শব্দ ব্যবহার করতে হবে এবং প্রশ্ন চিহ্ন (?) ব্যবহার করতে হবে । যেমন —

(i) চোরকে কেউ বিশ্বাস করে না (নির্দেশক বাক্য) । চোরকে কে বিশ্বাস করে ? (প্রশ্নবাচক বাক্য )

(ii) ভালো শিক্ষক পাওয়া নিতান্ত সৌভাগ্যের কথা (নির্দেশক বাক্য) । ভালো শিক্ষক পাওয়া কি সৌভাগ্যের কথা নয় ? (প্রশ্ন বাচক বাক্য) ।

(৩) প্রশ্নবাচক বাক্য থেকে নির্দেশক বাক্যে পরিবর্তন—

(i) কে না ভুল করে ? (প্রশ্নবাচক বাক্য) ভুল সকলেই করে (নির্দেশক বাক্য) ।

(ii) সত্য কথা বলতে দোষ কী ? (প্রশ্নবাচক বাক্য) । সত্য কথা বলতে দোষ নেই (নির্দেশক বাক্য) ।

(iii) আমরা কি সরকারের লোক নই ? (প্রশ্নবাচক বাক্য) । আমরা তো সরকারের লোক (নির্দেশক বাক্য) ।

প্রশ্নোত্তর

১। সঠিক উত্তরটি বেছে নিয়ে লেখ :-

(ক) যে পদ সমষ্টির যোগ্যতা, আসত্তি ও আকাঙ্ক্ষা আছে, তাকে বলে— (ক) বাক্য (খ) বাচ্য (গ) নামপদ (ঘ) বিগ্রহ বাক্য ।

(খ) বাক্য নির্মাণের শর্ত হল— (ক) ৩টি (খ) ২টি (গ) ৪টি (ঘ) ৫টি ।

(গ) সূর্য পূর্ব দিকে অস্ত যায় —বাক্য গঠনের ক্ষেত্রে এখানে কোন শর্ত মানা হয়নি ? (ক) আকাঙ্ক্ষা (খ) যোগ্যতা (গ) আসত্তি (ঘ) আসত্তি ও যোগ্যতা ।

(ঘ) বনে থাকে ········ । বাক্যটিতে কোন শর্তের ঘাটতি রয়েছে ? (ক) আকাঙ্ক্ষা (খ) যোগ্যতা (গ) মান্যতা (ঘ) আসত্তি ।

(ঙ) বাক্যের মূল উপাদান হল— (ক) উদ্দেশ্য ও বিধেয় (খ) কর্তা ও কর্ম (গ) উদ্দেশ্য ও কর্ম (ঘ) বিধেয় ।

(চ) গঠনগত বাক্য হল— (ক) ৩ প্রকার (খ) ২ প্রকার (গ) ৪ প্রকার (ঘ) ৫ প্রকার ।

(ছ) অর্থগত দিক ঠিকে বাক্য হল— (ক) ৪ প্রকার (খ) ৫ প্রকার (গ) ৬ প্রকার (ঘ) ৭ প্রকার ।

(জ) দুই বা তার বেশি স্বাধীন বাক্য থাকে— (ক) সরল বাক্যে (খ) যৌগিক বাক্যে (গ) জটিল বাক্যে (ঘ) কোনটাই নয় ।

(ঝ) 'মন্দিরে বাজছিল পূজার ঘন্টা ।' -এটি হল— (ক) জটিল বাক্য (খ) যৌগিক বাক্য (গ) সরল বাক্য (ঘ) মিশ্র বাক্য ।

(ঞ) সরল বাক্যে মাত্র একটি থাকে— (ক) বিশেষ্য পদ (খ) বিশেষণ পদ (গ) সর্বনাম পদ (ঘ) সমাপিকা ক্রিয়া ।

(চ) 'আহা কি আনন্দ আকাশে বাতাসে' -এটি হল— (ক) নির্দেশক বাক্য (খ) আবেগসূচক বাক্য (গ) সন্দেহ বাচক বাক্য (ঘ) অনুজ্ঞাবাচক বাক্য

(ছ) 'তোমার ভালো হোক' । বাক্যটি — (ক) অনুজ্ঞাসূচক বাক্য (খ) নির্দেশক বাক্য (গ) প্রশ্নবাচক বাক্য (ঘ) মিশ্র বাক্য ।

অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন:-

(ক) নির্দেশক বাক্যের একটি উদাহরণ দাও ?

(খ) লোকটা মন্দ নয় । ইতিবাচক বাক্যে পরিবর্তন কর ।

(গ) গান তো জানি একটা দুটো । না বাচক বাক্যে পরিবর্তন কর ।

(ঘ) গঠনগত দিক থেকে বাক্য কয় প্রকার ও কি কি ?

(ঙ) বাক্যের কয়টি শর্ত ও কি কি ?

(চ) বাক্য শব্দের আভিধানিক অর্থ কী ?

(ছ) শর্ত সাপেক্ষ বাক্যের একটি উদাহরণ দাও ।

(জ) শব্দের ত্রিবিধ অলংকার কী কী ?

(ঝ) ছেলেটি আগুনে সাঁতার কাটছে । বাক্য নির্মাণের কোন শর্ত লঙ্ঘিত হয়েছে ?

(ঞ) একটি মাত্র শব্দ দিয়ে বাক্য গঠন কর ।

********

Related Items

ব্যঞ্জন ধ্বনি ঘটিত পরিবর্তন

ব্যঞ্জনসংগতি বা সমীভবন :— কোনো শব্দের মধ্যে যদি দুটি ভিন্ন বা আলাদা ব্যঞ্জনধ্বনি পাশাপাশি থাকে, তবে উচ্চারণের সুবিধার জন্য দুটি ধ্বনিকে একই ধ্বনিতে পরিণত করা হয় । এইভাবে বিভিন্ন অসদৃশ ব্যঞ্জনধ্বনিকে সদৃশ ব্যঞ্জনধ্বনিতে পরিণত করার নাম সমীকরণ বা সমীভবন ।

ধ্বনি ও ধ্বনি পরিবর্তন

ধ্বনি ও ধ্বনির পরিবর্তন সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা

বাক্য ও বাক্যের শ্রেণীবিভাগ

বাক্য— আমরা যে কথা বলি অর্থাৎ একে অপরের সঙ্গে মনের ভাব বিনিময় করা হয় যে মাধ্যমের দ্বারা তাই বাক্য । কয়েকটি পদ পাশাপাশি বসে যখন মনের সম্পূর্ণভাব প্রকাশ করে তখন তাকে বাক্য বলে ।

সন্ধি ও সন্ধি বিচ্ছেদ

সন্ধি বিচ্ছেদ (নমুনা প্রশ্ন এবং বিগত মাধ্যমিক পরীক্ষার)। অভীষ্ট= অভি+ইষ্ট, তেজস্ক্রিয়= তেজঃ+ক্রিয়, মুহুর্মুহু= মুহুঃ+মুহু , যজ্ঞাগারে= যজ্ঞ + আগারে, দিগভ্রম= দিক্+ভ্রম, নভোমন্ডল= নভঃ+মন্ডল, দুর্বল= দুঃ+বল, নীরব= নিঃ+রবে

বাচ্য (Voice)

বাচ্য বলতে সাধারণত বোঝায় প্রকাশভঙ্গি বা বাচনভঙ্গির রূপভেদ অর্থাৎ রূপের পরিবর্তন । যেমন— পুলিশ চোরটিকে ধরেছে । পুলিশের দ্বারা চোরটি ধরা হয়েছে । এখানে দেখা যাচ্ছে, বক্তব্য এক কিন্তু প্রকাশভঙ্গি আলাদা । সুতরাং বাচ্য হল ব্যক্তিভেদে বাচনভঙ্গি অনুযায়ী কর্তা, কর্ম বা ক্রিয়াপদের প্রাধান্য নির্দেশ করে ক্রিয়াপদের রূপের যে পরিবর্তন ঘটে, তাকেই বলে বাচ্য ।