অধ্যায়ভিত্তিক প্রশ্নোত্তর:[৭ম অধ্যায়- ২য় অংশ]

প্রশ্ন:- সি জি গি কাকে বলে ?

উত্তর: নিজেদের কক্ষপথে পরিক্রমণ করতে করতে যখন চাঁদের কেন্দ্র, পৃথিবীর কেন্দ্র এবং সূর্যের কেন্দ্র একই সরলরেখায় অবস্থান করে, তখন তাকে সি জি গি বলা হয় (Syzygy = সি জি গি = যোগবিন্দু) । সি জি গি অবস্থান দুটি উপবিভাগে বিভক্ত, যথা প্রতিযোগ ও সংযোগ অবস্থান । ১) পূর্ণিমার দিন পৃথিবী যখন সূর্য ও চন্দ্রের মাঝখানে একই সরলরেখায় অবস্থান করে, তখন তাকে প্রতিযোগ অবস্থান বলে । অন্যদিকে ২) অমাবস্যার দিন যখন সূর্য ও চন্দ্র পৃথিবীর একই দিকে এবং একই সরলরেখায় অবস্থান করে তখন তাকে সংযোগ অবস্থান বলা হয় ।

তেজী কোটাল অথবা, ভরা ‘কোটাল’ অথবা তেজী বা ভরা কোটালকে কেন সর্বোচ্চ জোয়ার বলা হয় ?

অমাবস্যা ও পূর্ণিমায় পৃথিবী, চন্দ্র ও সূর্য একই সরলরেখায় অবস্থান করে । অমাবস্যা এবং পূর্ণিমায় সূর্য ও চন্দ্রের মিলিত আকর্ষণী বলের প্রবল টানে যে তীব্র জোয়ারের সৃষ্টি হয়, তাকেই ভরা কোটাল বা তেজী কোটাল বলে ।

অমাবস্যা তিথিতে পৃথিবীর একই পাশে একই সরলরেখায় চন্দ্র ও সূর্য অবস্থান করে এবং পূর্ণিমা তিথিতে সূর্য ও চন্দ্রের মাঝে একই সরল রেখায় পৃথিবী অবস্থান করে । এই ভাবে চন্দ্র ও সূর্যের মিলিত বলের প্রবল আকর্ষণে অমাবস্যা ও পূর্ণিমা তিথিতে যে তীব্র জোয়ার সৃষ্টি হয়, তাকে তেজী কোটাল বা ভরা জোয়ার বলে ।

অমাবস্যা ও পূর্ণিমার তেজী কোটালের সময় জোয়ারের স্থানে অত্যধিক জলস্ফীতি ঘটে এবং ভাটার স্থানে জলস্তর খুব বেশি মাত্রায় নেমে যায় । এই সময়ে সূর্য ও চন্দ্র একে অপরের পরিপূরক হিসেবে ভরা জোয়ার উৎপন্ন করে বলে জোয়ার ও ভাটার মধ্যে জলতলের পার্থক্য খুব বেশি মাত্রায় হয় । ভূপৃষ্ঠের জলভাগের একই স্থানে প্রতিমাসে দু’বার করে তেজী কোটাল (অর্থাৎ ভরা কোটাল) সংঘটিত হয় ।

অন্যান্য যে-কোনো দিনের জোয়ারের তুলনায় অমাবস্যা ও পূর্ণিমার দু’দিনে চন্দ্র ও সূর্যের মিলিত আকর্ষণে জোয়ারের জলস্ফীতি সর্বাধিক হয়, তাই তেজী বা ভরা কোটালকে সর্বোচ্চ জোয়ার বলা হয় ।

প্রশ্ন:-জোয়ার ভাটা নদীর নাব্যতাকে কী ভাবে প্রভাবিত করে ?

উত্তর: জোয়ারের জল অনেক সময় নদী মোহনার পলি তুলে নিয়ে দেশের অভ্যন্তরে নদীগর্ভে জমা করে নদীর নাব্যতাকে (গভীরতা) কমিয়ে ফেলে ।

অন্যদিকে, ভাটার টানে নদীগর্ভ আবর্জনা ও পলিমুক্ত হওয়ায় নদীখাতের গভীরতা ও বিস্তার বৃদ্ধি পায় এবং নদীর নাব্যতা রক্ষা পায় ।

প্রশ্ন:- অ্যাপেগি ও পেরিগি কী ?

উত্তর:- পৃথিবীর মতো চন্দ্রের কক্ষপথেও অনুসূর ও অপসূর অবস্থান রয়েছে । চন্দ্রের কেন্দ্র যখন পৃথিবীর কেন্দ্রের সবচেয়ে কাছে অবস্থান করে (৩,৫৬,০০০ কিমি), তখন তাকে চন্দ্রের ‘অনুসূর’ বা ‘পেরিগি অবস্থান’ বলে । প্রতি ১৫ দিন অন্তর একবার পেরিগি অবস্থান হয় । চন্দ্রের এই অবস্থানে জোয়ার অত্যন্ত প্রবল হয় । আবার, চন্দ্রের কেন্দ্র যখন পৃথিবীর কেন্দ্রের থেকে সবচেয়ে দূরত্বে অবস্থান করে (৪,০৭,০০০ কিমি), তখন তাকে চন্দ্রের অপসূর বা অ্যাপেগি অবস্থান বলে । এই অবস্থানে জোয়ার কিছুটা কম প্রবল হয় ।

প্রশ্ন:- অমাবস্যার জোয়ার পূর্ণিমার জোয়ারের তুলনায় অনেক তেজী হয় কেন ?

উত্তর: অমাবস্যা তিথিতে সূর্য ও চন্দ্র পৃথিবীর একই দিকে একই সরল রেখায় থাকে বলে পৃথিবীর একই স্থানে একই সঙ্গে চন্দ্র ও সূর্যের যৌথ আকর্ষণ কার্যকারী হয় । চন্দ্র ও সূর্যের এই মিলিত আকর্ষণে একই সঙ্গে মুখ্য চান্দ্র জোয়ার এবং মুখ্য সৌর জোয়ার হয় এবং তার বিপরীত বা প্রতিপাদ স্থানে একই সঙ্গে গৌণ চান্দ্র জোয়ার এবং গৌণ সৌর জোয়ার হয় । চন্দ্র ও সূর্যের মিলিত আকর্ষণে সৃষ্টি হওয়ার জন্য অমাবস্যার জোয়ার পূর্ণিমার জোয়ারের চেয়ে অনেক বেশি জোরদার হয় এবং সমুদ্রতলে অত্যধিক জলস্ফীতি ঘটে । এই জন্য অমাবস্যার জোয়ার পূর্ণিমার জোয়ারের চেয়ে অনেক বেশি তেজী হয় ।

প্রশ্ন:- ভরা কোটাল ও মরা কোটালের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করো ।

বৈশিষ্ট্য ভরা কোটাল মরা জোয়ার বা মরা কোটাল
১) তিথি ১)অমাবস্যা ও পূর্ণিমা তিথিতে ভরা জোয়ার বা ভরা কোটালের ঘটনা ঘটে । ১) কৃষ্ণ ও শুক্ল পক্ষের অষ্টমী তিথিতে মরা জোয়ার বা মরা কোটালের ঘটনা ঘটে ।

২) চন্দ্র ও সূর্যের

অবস্থান ।

২) অমাবস্যা তিথিতে, পৃথিবীর একই পাশে একই সরলরেখায় চন্দ্র ও সূর্য অবস্থান করে । পূর্ণিমা তিথিতে সূর্য ও চন্দ্রের মাঝে পৃথিবী একই সরলরেখায় অবস্থান করে । ২) কৃষ্ণ ও শুক্ল পক্ষের অষ্টমী তিথিতে সূর্য ও চন্দ্র পৃথিবীর সঙ্গে পরস্পর লম্বভাবে অবস্থান করে ।

৩) চন্দ্র ও সূর্যের

অবস্থানের ফলাফল

৩) অমাবস্যা ও পূর্নিমা তিথিতে সূর্য ও চন্দ্রের মিলিত আকর্ষণ বলের টানে জোয়ারের স্থানে খুব বেশি মাত্রায় জলস্ফীতি ঘটে এবং ভাটার স্থানে জল স্তর খুব বেশি মাত্রায় নেমে যায় । ফলে এই সময় জোয়ার ও ভাটার মধ্যে জলতলের পার্থক্য খুব বেশি মাত্রায় থাকে । ৩) অষ্টমী তিথিতে (কৃষ্ণ ও শুক্ল পক্ষ) চন্দ্রের প্রভাবে পৃথিবীর যেখানে জোয়ার হয়, তার প্রায় সমকোণী স্থানে সূর্যের প্রভাবেও জোয়ার হয় । এর ফলে চন্দ্রের আকর্ষণে যে দুই স্থানের জল ফুলে উঠতে চেষ্টা করে, সূর্যের আকর্ষণ সেই দুই স্থানে জলের উচ্চতা কমাতে চেষ্টা করে । এর ফলে জোয়ার ও ভাটা এই দুটিরই তীব্রতা কম থাকে ।

***