অধ্যায়ভিত্তিক প্রশ্নোত্তর:[অষ্টম অধ্যায়- ১ম: অংশ]

Submitted by administrator on Wed, 04/04/2012 - 19:02

অষ্টম অধ্যায়ঃ (ক) ১৯৩০ ও ১৯৪০ -এর দশকে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন

প্রশ্ন:- (১) নিখিল ভারত ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেস কবে প্রতিষ্ঠিত হয় ? এই সংগঠনের প্রথম অধিবেশনে কে সভাপতিত্ব করেন ? ‘মিরাট ষড়যন্ত্র মামলা’ কার বিরুদ্ধে কী উদ্দেশ্যে দায়ের করা হয় ? আইন অমান্য আন্দোলনে শ্রমিক শ্রেণি কী ভূমিকা গ্রহণ করে ?

উত্তর:- ১৯২০ খ্রিস্টাব্দের ৩১ শে অক্টোবর বোম্বাইতে নিখিল ভারত ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেস নামে একটি সর্বভারতীয় শ্রমিক সংগঠন প্রতিষ্ঠিত হয় । এই অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন লালা লাজপত রায়

১৯২৯ খ্রিস্টাব্দের ২০ শে মার্চ ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রায় ৩৩ জন কমিউনিষ্ট নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাঁদের বিরুদ্ধে মিরাট ষড়যন্ত্র মামলা শুরু করা হয় ।

আইন অমান্য আন্দোলনে ভারতের শ্রমিকশ্রেণি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল, যেমন:-

(১) আইন অমান্য আন্দোলন চলাকালীন সময়ে বোম্বাই বন্দরে শ্রমিক আন্দোলনের ফলে প্রায় ৩০ কোটি টাকা মূল্যের বিদেশি পণ্য বন্দরে আটকে পড়ে ।

(২) দেশের আমদানির পরিমাণ হ্রাস পেয়ে এক-তৃতীয়াংশে নেমে আসে।

(৩) বোম্বাইয়ে অনেকগুলি ব্রিটিশ পরিচালিত সুতাকল বন্ধ হয়ে যায়।

(৪) সর্বোপরি স্বদেশি খাদি বস্ত্রের উৎপাদন ও বিক্রি অভাবনীয়ভাবে বৃদ্ধি পায়।

অপর দিকে বলা যায়, অসহযোগ আন্দোলনের সময় ভারতে শ্রমিক আন্দোলনের যে স্বতঃস্ফূর্ত চেহারা দেখা গিয়েছিল; বিশেষ কিছু স্থান ও সময় ছাড়া আইন অমান্য আন্দোলনের সময়ে তা দেখা যায়নি ।

প্রশ্ন:- (২) সীমান্ত গান্ধি কাকে বলা হয় ? সীমান্ত গান্ধি প্রতিষ্ঠিত সংগঠনটির নাম কী ?

উত্তর:- গান্ধিজির মন্ত্রশিষ্য খান আব্দুল গফ্‌ফর খাঁকে সীমান্ত গান্ধি বলা হয় । তাঁর প্রতিষ্ঠিত সংগঠনটির নাম ছিল খোদা-ই-খিদমতগার বা লাল কোর্তা বাহিনী ।

প্রশ্ন:- (৩) কবে গান্ধিজি আইন অমান্য আন্দোলন শুরু করেন ? কোন ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই আন্দোলন শুরু হয় ?

উত্তর:- ১৯৩০ সালে মহাত্মা গান্ধি আইন অমান্য আন্দোলন শুরু করেন। ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দের ১২ই মার্চ গান্ধিজি গুজরাটের সমরবতী আশ্রম থেকে সমুদ্র উপকূলে অবস্থিত ডান্ডি অভিমুখে যাত্রা করলে আইন অমান্য আন্দোলনের সূচনা হয়।

প্রশ্ন:- (৫) গান্ধি-আরউইন চুক্তি কবে এবং কেন স্বাক্ষরিত হয়েছিল ?

উত্তর:- ১৯৩১ সালের ৫ই মার্চ গান্ধি-আরউইন চুক্তি বা দিল্লী চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। প্রথম গোল টেবিল বৈঠক ব্যর্থ হলে ব্রিটিশ সরকার কংগ্রেসের সঙ্গে আপোষ করতে উদ্যোগী হয় । এই উদ্দেশ্যে গান্ধিজির সঙ্গে তৎকালীন বড়লাট লর্ড আরউইন দীর্ঘ আলোচনার পর অবশেষে ১৯৩১ সালের ৫ই মার্চ ‘গান্ধি-আরউইন চুক্তি’ বা ‘দিল্লী চুক্তি’ স্বাক্ষরিত করে ।

প্রশ্ন:- (৭) কোন স্বদেশি তিরিশের দশকে ঢাকা থেকে ছদ্মবেশে পালিয়ে কলকাতায় এসে হাজির হয়েছিলেন ? কলকাতায় তিনি অন্য কাদের সঙ্গে মিলিত হন ? কীভাবে তাঁরা অলিন্দ যুদ্ধ চালিয়েছিলেন ?

উত্তর:- বিপ্লবী বিনয়কৃষ্ণ বসু ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালের মেডিকেলের ছাত্র ছিলেন । ১৯৩০ সালে তিনি বাংলা পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল লোম্যানকে গুলি করে হত্যা করেন । গ্রেপ্তারি এড়াবার জন্য বিনয় বসু ছদ্মবেশে কলকাতায় পালিয়ে আসেন ।

কলকাতায় এসে বিনয় বসু যুগান্তর দলের দুই বিপ্লবী বাদল গুপ্ত ও দীনেশ গুপ্তের সঙ্গে মিলিত হন ।

(ক) ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দের ৮ই ডিসেম্বর যুগান্তর দলের সদস্য বিনয় বসু, বাদল গুপ্ত দীনেশ গুপ্ত ছদ্মবেশে কলকাতার রাইটার্স বিল্ডিং-এ প্রবেশ করেন । তাঁরা দোতালায় উঠে গিয়ে কারাবিভাগের ইন্সপেক্টর জেনারেল সিম্পসনকে হত্যা করেন ও আর একজন ইংরেজ কর্মচারী আহত হন ।

(খ) এরপর তিন জন একটি ছোট্ট ত্রিবর্ণরঞ্জিত পতাকা উত্তোলন করে বন্দেমাতারম ধ্বনি দিতে দিতে পূর্বদিকের বারান্দায় ছুটে যান । এই সময় রাইটার্স বিল্ডিং-এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের খন্ড যুদ্ধ শুরু হয় ।

(গ) ইতিমধ্যে লালবাজারের পুলিশ কমিশনার চালর্স টেগার্ট বিশাল পুলিশবাহিনী নিয়ে তাঁদের ঘিরে ফেলেন । এরপর রাইটার্স বিল্ডিংস-এর অলিন্দে তিন তরুণের সঙ্গে ব্রিটিশ পুলিশবাহিনীর গুলির লড়াই শুরু হয়, যা ইতিহাসে ‘অলিন্দ যুদ্ধ’ নামে খ্যাত ।

(ঘ) শেষ পর্যন্ত বিপ্লবীদের সমস্ত গুলি ফুরিয়ে গেলে পালানো অসম্ভব বিবেচনা করে তিন জনই আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। বাদল গুপ্তের সঙ্গে সঙ্গে মৃত্যু হয়, কয়েকদিন পর হাসপাতালে বিনয় বসু মারা যান এবং দীনেশ গুপ্ত আরোগ্য লাভ করলেও পরে মৃত্যু দন্ডে দন্ডিত হন ।

******

Related Items

অধ্যায়ভিত্তিক প্রশ্নোত্তর:[দশম অধ্যায়- ২য় অংশ]

প্রশ্ন:- (৮) ঠান্ডা লড়াই কথাটি সর্বপ্রথম কে জনপ্রিয় করে তোলেন ? কোন দুটি দেশ ঠান্ডা লড়াইয়ের প্রধান দুই প্রতিপক্ষ ছিলেন ?

অধ্যায়ভিত্তিক প্রশ্নোত্তর:[নবম অধ্যায়- ২য় অংশ]

প্রশ্ন:- (৮) রাজ্যসভার সভাপতিত্ব করেন কে ? এই সভার সদস্য সংখ্যা কত ? লোকসভার গঠন ও কার্যাবলি সংক্ষেপে বর্ণনা করো ।

উত্তর: রাজ্যসভার সভাপতিত্ব করেন উপরাষ্ট্রপতি । এই রাজ্যসভার সদস্য সংখ্যা হল ২৫০ জন ।

অধ্যায়ভিত্তিক প্রশ্নোত্তর:[অষ্টম অধ্যায়- ৫ম: অংশ]

প্রশ্ন:- (২৯) দ্বিজাতি তত্ত্বের প্রথম প্রবক্তা কে ছিলেন ? স্বাধীনতা সংগ্রামের শেষ দিকে এই নীতি কীভাবে রাজনৈতিক ক্ষেত্রে অবনতি ঘটায় ?

উত্তর:- দ্বিজাতিতত্ত্বের প্রথম প্রবক্তা ছিলেন স্যার সৈয়দ আহম্মদ খাঁ

অধ্যায়ভিত্তিক প্রশ্নোত্তর:[অষ্টম অধ্যায়- ৪র্থ অংশ]

প্রশ্ন:- (২২) আজাদ হিন্দ ফৌজের বিচার কোথায় অনুষ্ঠিত হয় ? বিচারাধীন দুই জন আজাদ হিন্দ ফৌজের সেনাপতির নাম লেখ ।

অধ্যায়ভিত্তিক প্রশ্নোত্তর:[অষ্টম অধ্যায়- ২য় অংশ]

প্রশ্ন:- (৮) কীভাবে ভারতে কমিউনিস্ট পার্টি গঠিত হয় ?