প্রশ্ন:- (১৫) ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দে কোন ঘটনাবলীর পরিপ্রেক্ষিতে স্যার স্টাফোর্ড ক্রিপ্স ভারতে এসেছিলেন ?
উত্তর:- ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের গতিপ্রকৃতি সম্পূর্ণভাবে মিত্রপক্ষের বিরুদ্ধে চলে যায় । এই সময় (১৯৪১ খ্রিস্টাব্দে) জার্মানি সেভিয়েট রাশিয়া আক্রমণ করে এবং জাপান মিত্র-শক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে ।
(ক) দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলা কালীন সময়ে ভারতের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নানা কারণে জটিল হয়ে ওঠে । এই সময়ে একদিকে ভারতে ব্রিটিশ বিরোধী বিস্ফোরক পরিস্থিতি, অন্য দিকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে এশিয়ার নান অঞ্চলে জাপানের অভাবনীয় সাফল্য, বিশেষ করে মালয়, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া ও বার্মার (মায়ানমার) রাজধানী রেঙ্গুনের পতনের ফলে ব্রিটিশ সরকার চিন্তিত হয়ে পড়ে ।
(খ) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া জয় করে জাপান বার্মার ভিতর দিয়ে দ্রুত ভারতের দিকে এগিয়ে যেতে থাকলে ব্রিটিশ সরকার বুঝতে পারেন যে, এই সংকটের সময় ভারতবাসীর সাহায্য ছাড়া ভারতে জাপানকে বাধা দেওয়া যাবে না । আর ভারতে ব্রিটিশ অধিকার রক্ষা করা যাবে না । জাপানি আক্রমণের ফলে উদ্ভূত এই জটিল পরিস্থিতিতে এশিয়ার বিভিন্ন রণাঙ্গনে জাপানি আক্রমণের মোকাবিলা করতে হলে ভারতের সামরিক শক্তি ও সম্পদের সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন।
(গ) ১৯৪২ সালে ব্রিটিশ-ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রায় ৬৫% সৈন্য ছিল অমুসলিম সম্প্রদায় ভুক্ত । জাপানি আক্রমণের আগে ব্রিটিশ সরকারের ধারণা ছিল এই যে, ভারতের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের সেই সময়ের প্রতিনিধি কংগ্রেসকে বাদ দিয়ে কেবলমাত্র মুসলিম লিগ দলের সাহায্যেই এদেশে তাদের স্বার্থসিদ্ধি হবে । কিন্তু জাপানি আক্রমণের ভয় তাদের সেই ভ্রান্ত মনোভাবের পরিবর্তন ঘটায় । তারা বুঝতে পারে যে, ভারতীয় সেনাবাহিনীর সক্রিয় সহযোগিতা পেতে হলে মুসলিম লিগের তুলনায় কংগ্রেসের সমর্থনলাভই বেশি প্রয়োজন ।
(ঘ) তৎকালীন আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিও ব্রিটিশ সরকারকে ভারত সম্পর্কে নরম মনোভাব নিতে বাধ্য করে । এই সময়ে চিনের রাষ্ট্রপতি চিয়াং-কাই শেক ও মার্কিন রাষ্ট্রপতি রুজভেন্ট উভয়েই ভারত সম্পর্কে ব্রিটিশ সরকারের নীতি পরিবর্তনের অনুরোধ জানান । এরই সঙ্গে সঙ্গে আটলান্টিক সনদে পরাধীন জাতিগুলিকে আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়ে ছিল । সেই অর্থে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিও ভারতের অনুকূল ছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন ভারতবর্ষ ও বিশ্বরাজনীতির এই জটিল প্রেক্ষাপটে স্যার স্টাফোর্ড ক্রিপস্ ভারতে আসেন।
প্রশ্ন:- (১৬) ভারত ছাড়ো আন্দোলনের প্রসার আলোচনা করো ।
উত্তর:- ১৯৪২ সালের ৯ই আগষ্ট ‘ভারত-ছাড়ো প্রস্তাব’ গৃহীত হয় । পরদিন অর্থাৎ ৯ই আগষ্ট, ১৯৪২ এর ভোর থেকেই আন্দোলন শুরু হয়, যেমন-
১) প্রথম পর্যায়ে এই আন্দোলন কলকাতা, বোম্বাই, দিল্লী, নাগপুর, আমেদাবাদ, বরোদা, ঢাকা প্রভৃতি শহরে ছড়িয়ে পড়ে ।
২) মিছিল, মিটিং, পিকেটিং ও হরতাল পালনের মধ্য দিয়ে ছাত্র, যুবক, মধ্যবিত্ত ও শ্রমিক শ্রেণি ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সোচ্চার হয়ে ওঠে ।
৩) অল্প সময়ের মধ্যেই ‘ভারত ছাড়ো’ আন্দোলন শহর থেকে গ্রামাঞ্চলে বিস্তার করলে জনতা সরকারি টেলিগ্রাফ, রেলপথ প্রভৃতি যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর প্রবল আক্রমণ শুরু করে । থানা, অফিস, আদালতের ওপরও ক্রুদ্ধ জনতা চড়াও হয়।
৪) গ্রামাঞ্চলে এই আন্দোলন বেশি গভীরে প্রবেশ করেছিল । উত্তর প্রদেশ, বিহারের বিস্তীর্ণ অঞ্চল, মহারাষ্ট্রের সাতারা ও বাংলার মেদিনীপুর জেলায় আন্দোলন সর্বাত্মক আকার ধারণ করে । উত্তরপ্রদেশের বালিয়ায় একটি জাতীয় সরকার প্রতিষ্ঠিত হয় । বিহারের কৃষক-শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের পাশাপাশি পুলিশ কনস্টেবলরাও চাকরি ছেড়ে আন্দোলনে যোগ দেয়।
প্রশ্ন:- (১৭) ’করেঙ্গা ইয়া মরেঙ্গে’ -কোন আন্দোলনের রণধ্বনি ছিল ? এই আন্দোলন কবে অনুষ্ঠিত হয় ? এই আন্দোলনে কৃষক ও শ্রমিকরা কী রূপ ভূমিকা নেয় ?
উত্তর:- ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দের ভারত ছাড়ো আন্দোলনের রণধ্বনি ছিল করেঙ্গা ইয়া মরেঙ্গে ।
এই আন্দোলন ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দের আগস্ট মাসে অনুষ্ঠিত হয়।
ভারত ছাড়ো আন্দোলনে কৃষকদের ভূমিকা:- ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দের ৮ই আগস্ট তারিখে জাতীয় কংগ্রেসের বোম্বাই অধিবেশনে ভারত ছাড়ো আন্দোলনের প্রস্তাব পাশ হয় । পরদিন ৯ই আগস্ট ভারত জুড়ে স্বতঃস্ফূর্ত হরতাল, মিছিল, বিক্ষোভ ও গণঅভ্যুত্থান শুরু হয়।
১) আসাম, বাংলা, বিহার, উড়িষ্যা, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ প্রভৃতি স্থানের কৃষকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই আন্দোলনে যোগ দেয় ।
২) বাংলার মেদিনীপুর, বীরভূম, ঢাকা, ফরিদপুর, দিনাজপুর, হাওড়া, হুগলি, বর্ধমান প্রভৃতি জেলার কৃষকদের আন্দোলন গণবিদ্রোহের রূপ পায় ।
ভারত ছাড় আন্দোলনে শ্রমিকদের ভূমিকা:-
১) ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দের ভারত ছাড়ো আন্দোলন শুরু হলে ভারতের কমিউনিস্ট দল তাঁদের আদর্শ ও নীতির প্রতি আনুগত্যবশত এই আন্দোলনের বিরোধিতা করে । বিশ্বযুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে তাঁরা উৎপাদন বন্ধ না করার আহ্বান জানায় । তা সত্ত্বেও ভারতের শ্রমিক শ্রেণিকে ভারত ছাড়ো আন্দোলনের বাইরে রাখা সম্ভব হয়নি ।
২) গান্ধিজি ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দকে কারারুদ্ধ করার প্রতিবাদে বোম্বাই, নাগপুর, আমেদাবাদ, ব্যাঙ্গালোর, কানপুর, দিল্লী, জামসেদপুর, মাদ্রাজ, ইন্দোর প্রভৃতি শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকরা এক সপ্তাহ ধরে ধর্মঘট ও কর্মবিরতি পালন করে । আমেদাবাদ শিল্পাঞ্চলের কাপড়কলগুলিতে প্রায় তিন মাস ধরে ধর্মঘট চলে ।
৩) শ্রমিক ধর্মঘটের জন্য টাটাদের জামসেদপুর লৌহইস্পাত কারখানার উৎপাদন প্রায় তেরোদিন ধরে বন্ধ ছিল ।
প্রশ্ন:- (১৯) আজাদ হিন্দ ফৌজের ভারত অভিযান সম্পর্কে সংক্ষেপে লেখ । কী কারণে শেষ পর্যন্ত আজাদ হিন্দ ফৌজ আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়ে ছিল ?
উত্তর:- আজাদ হিন্দ ফৌজের ভারত অভিযান:-
১) ১৯৪৩ খ্রিস্টাব্দে ভারতের বিশিষ্ট বিপ্লবী রাসবিহারী বসুর ইচ্ছা অনুসারে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আজাদ হিন্দ ফৌজের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন।
২) নেতাজির রণধ্বনি ‘দিল্লী চলো’ ও ‘জয় হিন্দ’ মন্ত্রে উদ্দীপ্ত হয়ে আজাদ হিন্দ বাহিনী ভারত সীমান্তে এসে পৌঁছায়।
৩) নেতাজি জাপানের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের দায়িত্ব গ্রহণ করে সেখানে ত্রিবর্ণ পতাকা উত্তোলন করে দ্বীপগুলোর নতুন নামকরণ করেন শহিদ ও স্বরাজ দ্বীপ ।
৪) ১৯৪৪ খ্রিস্টাব্দের এপ্রিলে নেতাজির নেতৃত্বে আজাদ হিন্দ বাহিনী ব্রহ্মদেশ পার হয়ে মণিপুর রাজ্যে প্রবেশ করে এবং কোহিমা ও মৈরাং সহ ভারতীয় এলাকার প্রায় ১৫০ মাইল ব্রিটিশ শাসন মুক্ত করার পর মণিপুরের রাজধানী ইম্ফল অধিকারের উদ্দেশ্যে অগ্রসর হয় । ইতিমধ্যে প্রবল বর্ষা শুরু হলে আজাদ হিন্দ বাহিনীর ভারত অভিযান ব্যাহত হয় ।
আজাদ হিন্দ বাহিনীর আত্মসমর্পণের প্রধান কারণ:-
১) দূর্গম পার্বত্য এলাকায় যুদ্ধ পরিচালনায় নানান অসুবিধা এবং নির্দিষ্ট সময়ের আগেই প্রবল বর্ষা নামায় আজাদ হিন্দ বাহিনীর যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
২) অস্ত্রশস্ত্র, খাদ্য ও সরঞ্জামের অভাবের ফলে আজাদ হিন্দ ফৌজের সৈনিকরা পিছু হটতে বাধ্য হয়।
৩) ঐতিহাসিক এ.এম. নায়ারের মতে, জাপান ও সুভাষচন্দ্র বসুর ভারত অভিযানের পরিকল্পনা সময়উপযোগী ছিল না ও রণকৌশল ছিল ত্রুটিপূর্ণ ।
৪) এই সময়ে ইঙ্গ-মার্কিন বাহিনীর আক্রমণে জাপান বিধ্বস্ত হয়ে পড়ে । জাপানের সাহায্য বন্ধ হয়ে যায় । জাপানিরা পিছু হটায় পরিস্থিতি পাল্টে যায় ও আজাদ হিন্দ বাহিনী ব্রিটিশ ফৌজের কাছে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়।
প্রশ্ন:- (২০) নেতাজি নামে কে পরিচিত ছিলেন ? কোন বছর তিনি সিঙ্গাপুরে স্বাধীন ভারতের অস্থায়ী সরকার প্রতিষ্ঠা করেন ? আজাদ হিন্দ বাহিনীর কয়েক জন সেনা আধিকারিকের নাম লেখো, যাঁরা ব্রিটিশদের দ্বারা দেশদ্রোহের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছিলেন ।
উত্তর:- সুভাষচন্দ্র বসু নেতাজী নামে পরিচিত । ১৯৪৩ খ্রিস্টাব্দের ২১শে অক্টোবর তারিখে তিনি সিঙ্গাপুরে স্বাধীন ভারতের অস্থায়ী সরকার প্রতিষ্ঠা করেন।
আজাদ হিন্দ বাহিনীর কয়েক জন সেনা আধিকারিকের নাম যাঁরা ব্রিটিশদের দ্বারা দেশদ্রোহের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছিলেন ১) শাহনাওয়াজ খান, ২) গুরুদয়াল সিং ধিলোঁ, ৩) প্রেম সায়গল, ৪) ক্যাপ্টেন রসিদ আলি ।
প্রশ্ন:- (২১) আজাদ হিন্দ ফৌজ কে প্রতিষ্ঠা করেন ? এই ফৌজের নারী বাহিনীর নেতৃত্ব কে দিয়েছিলেন ? আজাদ হিন্দ ফৌজের লক্ষ্য কতদূর পরিপূর্ণ হয় ? আজদ হিন্দ ফৌজের বিচার ভারতীয় জনগণের ওপর কী প্রভাব বিস্তার করে ?
উত্তর:- বিপ্লবী রাসবিহারী বসু আজাদ হিন্দ ফৌজের প্রতিষ্ঠা করেন । আজাদ হিন্দ ফৌজের নারী বাহিনীর নেতৃত্ব দিয়েছিলেন শ্রীমতী লক্ষ্মী স্বামীনাথন । তাঁর বাহিনীর নাম ছিল ঝাঁসির রানি ব্রিগেড ।
আজাদ হিন্দ বাহিনী তার ঘোষিত লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হলেও ভারতের স্বাধীনতার ইতিহাসে আজাদ হিন্দ বাহিনীর অভিযানের ফলাফল ছিল সুদূরপ্রসারী ।
১) আজাদ হিন্দ বাহিনীর সংগ্রামের তাৎক্ষণিক ফল হিসাবে ভারতীয় নৌ-সেনারা বিদ্রোহ ঘোষণা করে;
২) ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে ভারতের নৌ-সেনাদের বিদ্রোহের পর, আজাদ হিন্দ সরকারের প্রধান হিসাবে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুই ভারতবর্ষের স্বাধীনতার দাবিকে একটি আন্তর্জাতিক প্রশ্নে পরিণত করেন ।
৩) আজাদ হিন্দ বাহিনীর বন্দি সেনাদের বিচারকে কেন্দ্র করে ১৯৪৫ সালের শেষের দিকে সারা ভারতে যে তুমুল উত্তেজনা ও ব্রিটিশ-বিরোধী আন্দোলনের সৃষ্টি হয়, তা সরকার পক্ষকে ক্রমশ ভীতি ও সন্ত্রস্ত করে তোলে ।
তাই ঐতিহাসিক দিক থেকে বিচার করলে দেখা যায়, নেতাজির আজাদ হিন্দ বাহিনী প্রকৃত পক্ষে ব্যর্থ হয়নি । ব্রিটিশ শক্তির ওপর চূড়ান্ত আঘাত হেনে তারা ভারতের স্বাধীনতা অর্জনের পথকে সুগম করে তুলে ছিল।
১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দে দিল্লীর লালকেল্লার প্রকাশ্য সামরিক আদালতে আজাদ হিন্দ ফৌজের বিচার ভারতীয় জনগণের ওপর ভয়ংকর প্রভাব বিস্তার করে । আজাদ হিন্দ ফৌজের বন্দি আধিকারিকদের বিচারে যে সিদ্ধান্ত হয় তার প্রতিবাদে
১) দেশব্যাপী গণবিক্ষোভ ও ছাত্র আন্দোলন শুরু হয় ।
২) ভারতের নানা স্থানে (বিশেষত কলকাতা ও তার পার্শ্ববর্তী শিল্পাঞ্চলে) ব্যাপক ধর্মঘট ডাকা হয়।
৩) আজাদ হিন্দ বাহিনীর বন্দি সেনাদের বিচারকে কেন্দ্র করে সারা ভারতে যে প্রবল গণবিক্ষোভ ও গণ-উন্মাদনা দেখা দিয়ে ছিল তার ফলে ব্রিটিশ শাসকদের মধ্যে প্রবল ভীতির সঞ্চার হয় । এই প্রসঙ্গে প্রখ্যাত ঐতিহাসিক ফিলিপ ম্যাস্ন বলেছেন, ‘এই ঐতিহাসিক বিচার ভারতে ব্রিটিশ শাসনের মৃত্যু ঘন্টা বাজিয়ে দেয়’।
****
- 492 views