জীবনে সময়ানুবর্তিতার মূল্য

Submitted by avimanyu pramanik on Wed, 12/13/2017 - 01:34

জীবনে সময়ানুবর্তিতার মূল্য [Value of Discpline in Life]

ভূমিকা:- ‘সময় চলিয়া যায় / নদীর স্রোতের প্রায়’ -- সময় কারোর জন্য থেমে থাকে না অথচ মানুষের জীবন সীমিত পরিসরের গন্ডিতে বাঁধা । নানা স্বপ্ন, আশা-প্রত্যাশার নানা কল্পনা

নিয়েই মানুষ বাঁচে । তাঁর স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে জীবনে নির্দিষ্ট সময় প্রয়োজন । কিন্তু সময় কারোর জন্য অপেক্ষা করে না । তাই মানুষের জীবনে সময়ানুবর্তিতার একটি বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে ।

সময়ের অপচয়:- সময় বড়ই মূল্যবান । তাকে অবহেলা, উপেক্ষা, অপচয় করলে তার মূল্য মানুষকে দিতেই হয় । কথায় বলে সময় থাকতে কিছু না করলে জীবনে অনিবার্য্য ভাবেই নেমে আসে দুঃখের অমানিকা । আলস্য, কর্মবিমুখ, উদাসীন ভাবে কাটালে জীবনে কখনই সফলতা আসে না । আর যদি সময়কে যথোচিত ভাবে মূল্য দিয়ে ব্যবহার করা যায় তাহলে জীবনে সাফল্য আসবে, জীবন সার্থক হবে ।

জীবনে সময় নিষ্ঠার মূল্য :- মানবজীবনের ভবিষ্যৎ সফলতার প্রথম সোপান হল সময়ের সদ্ ব্যবহার । উন্নতকামী মানুষ সময়কে ঠিকমতো কাজে লাগিয়ে আত্মপ্রতিষ্ঠার পিরামিড গড়ে তোলে । পৃথিবীতে যারা মৃত্যুজ্ঞয়ী, যারা মরেও মরে না, তাঁরা সময়ের নিগড়ে নিজেদের জীবনবীনাকে বেঁধেই চলেছিলেন । নিজেদের ব্যক্তিগত সুখস্বাচ্ছন্দের উপর বেশি নজর না দিয়ে সমাজের মঙ্গলের কথা, উন্নতির কথা ভেবেই তাঁরা অনলস ভাবে কাজ করে গেছেন । কঠোর সাধনা করেছেন । জীবনে সময়নিষ্ঠার প্রয়োজন সব থেকে বেশি ।

ছাত্রজীবন ও সময়াণুবর্তিতা :- মানুষের চরিত্র গঠন ও ভবিষ্যৎ নির্ধারণের প্রকৃষ্ট সময় হল ছাত্রজীবন । ছাত্রজীবনের মূলমন্ত্র হল, অধ্যয়নং তপঃ । পড়াশুনা করা তপস্যারই সামিল । সঠিক বিদ্যার্জন সাধনাসাপেক্ষ । সাধনার দ্বারাই তা অর্জন করতে হয় । তার জন্য সময়নিষ্ঠ হওয়া একান্ত প্রয়োজন । সময়ের নিগড়ে নিজের জীবনকে বেঁধে চলতে পারলে জীবনে সাফল্য আসবেই । তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ আমাদের চোখের সামনে রয়েছে । আমাদের দেশের মহাপুরুষদের জীবনীতে সে পরিচয় আমরা পাই । প্রকৃত চরিত্রের অধিকারী না হলে প্রকৃত মানুষ হওয়া সম্ভব নয় । তাই ছাত্রজীবন থেকেই সেই সাধনা আমাদের করতে হবে । প্রকৃত বিদ্যানুশীলনের মাধ্যমে প্রকৃত জ্ঞানার্জন এবং মৌলিক চিন্তা শক্তির উদ্ভাবন সম্ভব । তাই ছাত্রজীবনে সময়ানুবর্তিতা সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ ।

উপসংহার :- সময়ানুবর্তিতাই একটা সফল মানুষের মূল চাবিকাঠি । জীবনের স্বপ্নকে সার্থক ও সুন্দর করতে হলে সময়কে ঠিক ঠিক ভাবে ব্যবহার করতে হবে । সময়ের মূল্যবোধ একটা দেশ ও জাতিকে উন্নতির শিখরে পৌঁছে দিতে পারে । শৈশব থেকেই এই সময়ের ব্যবহারের মূল্যবোধ গড়ে তুলতে হবে । কারণ আমাদের মনে রাখতে হবে জীবনের মূল্য আয়ুতে নয়, কল্যাণপুত কর্মে । সময় নিষ্ঠা সেই কল্যাণ পুত কর্মের পথ প্রশস্ত করে । আমাদের মনে রাখতে হবে যে, আমরা যেন সময়ের দাস হয়ে না পড়ি, সময়কেই আমাদের দাস হতে হবে ।

***

Related Items

ছাত্র জীবনে খেলাধূলার প্রয়োজনীয়তা

'ছাত্রানাং অধ্যয়নং তপঃ' । ছাত্রছাত্রীদের প্রধান কাজ হল পড়াশুনা করা । পড়াশুনাকে তপস্যার মতো করেই করা দরকার । তবে পড়াশুনার সাথে সাথে শরীরচর্চা ও খেলাধূলার বিশেষ প্রয়োজন আছে । কারণ অসমর্থ ও দুর্বল শরীরে কখনো ভালো পড়াশুনা হয় না । এই প্রসঙ্গে তরুণদের উদ্দেশ্যে স্বামীজী বলেছেন "গীতাপাঠ অপেক্ষা ফুটবল খেলিলে তোমরা স্বর্গের আরও নিকটবর্তী হইবে ।"

সমাজ সচেতনতায় বিজ্ঞানের ভূমিকা

"বিজ্ঞান চায় সবার মাঝে প্রাণের কথা বলতে, অন্ধ আবেগ সরিয়ে দিয়ে আলোর পথে চলতে ।"

প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও তার প্রতিকার

"মন্বন্তরে মরিনি আমরা, মারি নিয়ে ঘর করি"— বন্যা, খরা, ভূমিকম্প, মহামারী মানুষের জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে । অথচ বিজ্ঞানের বলে বলিয়ান আমরা সদর্পে বলে চলেছি যে, প্রকৃতি আমাদের হাতের মুঠোয়, প্রকৃতি আমাদের কাছে বশীভূত । কিন্তু এ দর্প বা ধারণা সত্য নয় । মাঝে মধ্যেই প্রকৃতির রুদ্ররোষের কাছে মানুষ অসহায় হয়ে পড়ে । প্রাকৃতিক বিপর্যয় ।

দেশ ভ্রমণের প্রয়োজনীয়তা

"হাজার বছর ধরে আমি পথ হাঁটিতেছি পৃথিবীর পথে সিংহল সমুদ্র থেকে মালয় সাগরে অনেক ঘুরেছি আমি ।" মানুষ চির যাযাবর । মানুষের রক্তে রয়েছে ভ্রমণের নেশা । অজানাকে জানার অদেখাকে দেখার কৌতুহল মানুষের চিরন্তন ।

অরণ্য ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা

সূচনা:- মানুষের জন্ম থেকেই অরণ্য তার পরম আত্মীয়, অকৃত্রিম বন্ধু । অরণ্যের ডাকেই ধরিত্রীর প্রথম ঘুম ভেঙ্গে ছিল । দিকে দিকে প্রচারিত হয়েছিল জীবনের মহিমা । ভারতীয় সভ্যতা অরণ্য কেন্দ্রিক সভ্যতা, অরণ্যের কোলেই মানুষ গড়ে তুলেছিল তার প্রথম বাসস্থান । অরণ্য দিয়েছে বেঁচে থাকার রসদ, প্রাণের নিঃশ্বাস, আশ্বাস ।