প্রশ্ন:- (২২) আজাদ হিন্দ ফৌজের বিচার কোথায় অনুষ্ঠিত হয় ? বিচারাধীন দুই জন আজাদ হিন্দ ফৌজের সেনাপতির নাম লেখ ।
উত্তর:- দিল্লীর লালকেল্লায় গঠিত বিশেষ সামরিক আদালতে আজাদ হিন্দ ফৌজের অভিযুক্ত সেনাদের প্রকাশ্যে বিচার অনুষ্ঠিত হয় । আজাদ হিন্দ বাহিনীর দুই জন বিচারাধীন সেনাপতির নাম হল শাহনাওয়াজ খান ও মোহন সায়গল।
প্রশ্ন:- (২৪) ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে নৌ-বিদ্রোহের গুরুত্ব কী ? দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর ভারতে ছাত্র আন্দোলনের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও ।
উত্তর:- আপাত দৃষ্টিতে নৌ-বিদ্রোহ ব্যর্থ মনে হলেও ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে এই আন্দোলনের সূদুর প্রসারী গুরুত্ব ছিল, যেমন-
১) বিদ্রোহীদের পক্ষে ব্যাপক জনসমর্থন ,
২) প্রথমবারের জন্য সৈনিক ও সাধারণ মানুষের রক্ত রাজপথে প্রবাহিত,
৩) পুলিশ, সেনাবাহিনী ও বিমান বাহিনীতে অসন্তোষের চিহ্ন,
৪) ব্রিটিশ সরকারের উপলব্ধি -'বল প্রয়োগে ভারতকে আর পদানত রাখা সম্ভব নয়' ।
এইভাবে নৌ-বিদ্রোহ ভারতকে স্বাধীনতা লাভের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়।
বিশ্বযুদ্ধের অবসানের পর ভারতবর্ষ এক সংকটময় পরিস্থিতির সম্মুখীন হয় । দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন ও যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে ক্রমবর্ধমান খাদ্যাভাব, দুর্ভিক্ষ, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের অভাব, মজুতদারি, কালোবাজারি, শিল্পে মন্দা, কর্মীছাঁটাই, বেকারি প্রভৃতি অর্থনৈতিক কারণ ভারতের সাধারণ মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তোলে । ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দের ভারতছাড়ো আন্দোলনের ব্যর্থতা ও কঠোর সরকারি দমননীতির ফলে ভারতের ছাত্র সমাজ ক্ষুব্ধ, উত্তেজিত ও ব্রিটিশ শাসনের বিরোধিতায় মুখর হয়ে ওঠে । এই সমস্ত রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কারণের প্রেক্ষাপটে ১৯৪৫ সাল থেকে ১৯৪৭ সালের স্বাধীনতা প্রাপ্তির আগে পর্যন্ত সময়ে ভারতের নানা প্রান্তে একের পর এক ছাত্র আন্দোলনের ঢেউ দেখা দেয়। এই সমস্ত ছাত্র আন্দোলনের মধ্যে আজাদ হিন্দ বাহিনীর বন্দি সেনাদের মুক্তির দাবিতে ছাত্র আন্দোলনই ছিল সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ।
১) আজাদ হিন্দ বাহিনীর বন্দী সেনাদের মুক্তির দাবিতে ছাত্র আন্দোলন:-
(ক) ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দের ৫ই নভেম্বর দিল্লীর লালকেল্লায় গঠিত বিশেষ সামরিক আদালতে আজাদ হিন্দ বাহিনীর অভিযুক্ত সেনাদের প্রকাশ্য বিচার শুরু হলে তার প্রতিবাদে ছাত্র আন্দোলনের অঙ্গ হিসাবে কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠন 'বঙ্গীয় প্রাদেশিক ছাত্র কংগ্রেস', ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির ছাত্র সংগঠন ‘ছাত্র ফেডারেশন’ এবং ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দের ২১শে নভেম্বর ইসলামিয়া কলেজের (বর্তমান মৌলনা আজাদ কলেজ) বিশাল ছাত্র মিছিল ডালহৌসি স্কোয়ারে যেতে গিয়ে পুলিশের দ্বারা বাধা প্রাপ্ত হলে ধর্মতলা স্ট্রিট (বর্তমান লেনিন সরণি) রাস্তা অবরোধ করে ।
(খ) সন্ধ্যাবেলায় সেই ছাত্র সমাবেশের ওপর পুলিশের গুলিতে 'ক্যালকাটা টেকনিক্যাল স্কুলের’ রামেশ্বর চট্টপাধ্যায় নামে জনৈক ছাত্র নিহত হয় এবং অনেক ছাত্র আহত হয় ।
(গ) এই ঘটনার প্রতিবাদে ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দের ২২শে ও ২৩শে নভেম্বর কলকাতায় ধর্মঘট পালিত হয় এবং গাড়িতে আগুন লাগানো চলতে থাকে । পরিস্থিতি আয়ত্বে আনতে পুলিশ অন্তত ১৫ বার গুলি চালায় । এই প্রসঙ্গে বাংলার তৎকালীন গভর্নর কে.সি বড়লাট লর্ড ওয়াভেল -কে পাঠানো তাঁর রিপোর্টে লিখেছিলেন ‘খুবই বিস্ফোরক ও বিপজ্জনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, ছাত্রদের ওপর গুলি চালালেও তারা দাঁড়িয়েই থাকছে, বড়োজোর একটু পিছিয়ে গিয়ে আবার আক্রমণ করছে ।
২) রশিদ আলি দিবসে ছাত্র আন্দোলন:-
(ক) ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দের ২রা ফেব্রুয়ারি তারিখে লালকেল্লার সামরিক আদালতে আজাদ হিন্দ বাহিনীর জনৈক সেনা অফিসার ক্যাপ্টেন রশিদ আলিকে কোর্ট মার্শাল করে সাত বছরের সশ্রম কারাদন্ডে দন্ডিত করলে তাঁর মুক্তির দাবিতে মুসলিম ছাত্র লিগ ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দের ১১ই ফেব্রুয়ারি কলকাতায় ছাত্র ধর্মঘটের ডাক দেয় । সমস্ত ছাত্র সংগঠন এই ছাত্র ধর্মঘট সমর্থন করে;
(খ) ডালহৌসি স্কোয়ারের দিকে বিশাল ছাত্র মিছিল এগিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশ মিছিলে গুলি চালালে তার প্রতিবাদে পরের দিন অর্থাৎ ১২ই ফেব্রুয়ারি, ১৯৪৬ খ্রি. রশিদ আলি দিবসে সর্বাত্মক ধর্মঘট পালিত হয় । এই কয়েক দিনে আইন-শৃঙ্খলাজনিত পরিস্থিতি পুলিশের আয়ত্বের বাইরে চলে যায় । আন্দোলন দমন করতে সেনাবাহিনী ডাকতে হয় । পুলিশ ও মিলিটারির গুলিতে সরকারি হিসাবে ৮৪ জন নিহত ও ৫০০ জন আহত হয় । বেসরকারি মতে, আহত ও নিহতের সংখ্যা ছিল অনেক বেশি ।
প্রশ্ন:- (২৫) মুসলিম লিগ কবে প্রতিষ্ঠিত হয় ? স্যার সৈয়দ আহম্মদ খাঁ কেন মুসলমানদের কংগ্রেসে যোগ না দিতে পরামর্শ দিয়েছিলেন ? মুসলিম লিগ কেন ‘প্রত্যক্ষ সংগ্রাম দিবস’ পালন করে ?
উত্তর:- ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দের ৩০ শে ডিসেম্বর তারিখে মুসলিম লিগ প্রতিষ্ঠিত হয়।
স্যার সৈয়দ আহম্মদ খাঁ মুসলমানদের কংগ্রেসে যোগ না দিতে পরামর্শ দিয়েছিলেন কারণ:-
(ক) স্যার সৈয়দ আহম্মদ খাঁ-র পূর্ব পুরুষরা মোগল যুগে পারস্য বা তুরাণ থেকে আসেন, এরা ছিলেন ভারতীয় মুসলমানদের মধ্যে ‘আশরফ’ বা ‘অভিজাত শ্রেণি’। স্যার সৈয়দ আহম্মদ নিজের অভিজাত রক্তের জন্য গর্বিত ছিলেন । তিনি মনে করতেন, ভারতের শাসনব্যবস্থায় অভিজাত বংশীয় মুসলমানদের উচ্চপদ লাভের জন্মগত অধিকার আছে এবং একমাত্র তারাই ভারতের শাসকশ্রেণি হওয়ার যোগ্য ।
(খ) ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস যখন গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষ আদর্শ প্রচার করে, স্যার সৈয়দ আহম্মদ আশঙ্কা করেন যে, কংগ্রেসি আন্দোলনের ফলে মুসলিম অভিজাতরা ভারতের শাসনব্যবস্থায় তাঁদের প্রাপ্য অধিকার হারাবেন। এই কারণেই তিনি কংগ্রেসের জন্মলগ্ন থেকেই কংগ্রেসের বিরোধীতার পথ বেছে দিয়েছিলেন এবং মুসলমানদের কংগ্রেসে যোগ না দিতে পরামর্শ দিয়ে ছিলেন।
মুসলিম লিগ কেন প্রত্যক্ষ সংগ্রাম দিবস পালন করে:-
১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দের ১২ই আগস্ট বড়লাট লর্ড ওয়াভেল জাতীয় কংগ্রেসে সভাপতি জওহরলাল নেহেরুকে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের জন্য আহ্বান জানালে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস তাতে সন্মতি জানায় । এই ঘটনায় ক্রুদ্ধ ও উত্তেজিত মুসলিম লিগ ‘প্রত্যক্ষ সংগ্রাম’ শুরু করার সিদ্ধান্ত নেয় । মুসলিম লিগের সেই সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দের ১৬ই আগস্ট ‘প্রত্যক্ষ সংগ্রাম দিবস’ রূপে পালিত হয় । ওই দিন কলকাতায় ভয়াবহ দাঙ্গা হাঙ্গামা বাধে এবং সেখান থেকে সাম্প্রদায়িক সংঘাতের আগুন ভারতের অন্যত্রও ছড়িয়ে পড়ে ।
প্রশ্ন:- (২৭) ‘দ্বিজাতিতত্ত্ব’কী ? ভারতবর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রামের শেষ পর্যায়ে এই তত্ত্বের প্রভাব উল্লেখ করো ।
উত্তর:- ‘হিন্দু’ ও ‘মুসলিম’ দুটি পৃথক ধর্মের নাম নয়, ভারতে বসবাসকারী হিন্দু ও মুসলিমরা হল দুটি পৃথক জাতি । এই ধরনের বক্তব্যই দ্বিজাতিতত্ত্ব নামে পরিচিত । স্যার সৈয়দ আহম্মদ খাঁ দ্বিজাতি তত্ত্বের বীজ বপন করলেও পরবর্তী কালে মহম্মদ আলি জিন্না পৃথক পাকিস্তান রাষ্ট্রের দাবিতে এই তত্ত্ব প্রচার করেন ।
ভারতবর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রামের শেষ পর্যায়ে দ্বিজাতি তত্ত্বের প্রভাব:-
তিরিশের দশকে ভারতের জাতীয় রাজনীতি গতিশীল ও গণমুখি হয়ে উঠেছিল । এই সময় মুসলিম সাম্প্রদায়িক রাজনীতির পরিবর্তন ঘটতে থাকে । প্রাদেশিক নির্বাচন কংগ্রেসের অভূতপূর্ব সাফল্যে মুসলিম লিগ নেতা মহম্মদ আলি জিন্না বিচলিত হয়ে পড়েন । তখন মহম্মদ আলি জিন্না মুসলিম লিগকে মুসলমানদের মধ্যে জনপ্রিয় করে তুলতে যথাসাধ্য চেষ্টা করে যেতে থাকেন ।
(ক) দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সূচনা থেকেই ব্রিটিশ সরকার ভারতের রাজনীতিতে বিভেদপন্থী নীতি গ্রহণ করে । ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দে কংগ্রেস মন্ত্রীসভাগুলি পদত্যাগ করলে মহম্মদ আলি জিন্না উৎফুল্ল হয়ে ওঠেন এবং তিনি মুক্তি দিবস (Day of Deliverence) উদযাপনের ডাক দেন।
(খ) এরপর মহম্মদ আলি জিন্নার নেতৃত্বে মুসলিম লিগ দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে উত্তর-পশ্চিম ও পূর্ব ভারতের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রদেশগুলিকে নিয়ে ভারতীয় মুলমানদের জন্য একটি পৃথক সার্বভৌম মুসলিম রাষ্ট্র গঠনের দাবি জানায় । ১৯৪০ সালের মার্চ মাসে মুসিল লিগের লাহোর অধিবেশনে মহম্মদ আলি জিন্না পাকিস্থান দাবির প্রস্তাব উপস্থাপন করেন । স্বাধীন মুসলিম রাষ্ট্র গঠনের আদর্শ ‘পাকিস্তান প্রস্তাব’ নামে পরিচিত । অবশ্য মুসলিম লিগের লাহোর প্রস্তাবে পাকিস্তান কথাটি ছিল না ।
(গ) মুসলিম লিগের ‘লাহোর প্রস্তাব’ সাম্প্রদায়িকতায় ইন্ধন জোগায় এবং ব্রিটিশ সরকারের সাম্প্রদায়িক নীতি আরও তীব্র হয়ে ওঠে । কিন্তু দিল্লীতে অনুষ্ঠিত সর্বভারতীয় স্বাধীন মুসলিম অধিবেশনে মুসলমানদের জন্য পৃথক রাষ্ট্র গঠনের পরিকল্পনার তীব্র নিন্দা করা হয় ।
(ঘ) দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন সময় সহযোগিতা লাভের উদ্দেশ্যে ব্রিটিশ সরকার মুসলিম লিগের প্রতি সহানুভূতিসম্পন্ন হয়ে ওঠে। এই পরিস্থিতির পূর্ণ সুযোগ নিয়ে মহম্মদ আলি জিন্না মুসলিম লিগের সাংগঠনিক শক্তি ক্রমশ প্রসারিত করতে থাকে ।
(ঙ) পরবর্তী সময়ে লর্ড ওয়াভেল ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি জওহরলাল নেহেরুকে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের জন্য আহ্বান জানালে সেই প্রস্তাবে কংগ্রেস তার সন্মতি জানায় । এই ঘটনায় উত্তেজিত ও ক্রুদ্ধ মুসলিম লিগ ‘প্রত্যক্ষ সংগ্রাম’ শুরু করার সিদ্ধান্ত নেয় । ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দের ১৬ই আগস্ট সমগ্র ভারতে ‘প্রত্যক্ষ সংগ্রাম দিবস’ রূপে পালিত হয় । ওই দিন কলকাতায় ভয়াবহ দাঙ্গাহাঙ্গামা বাধে এবং এর পর থেকে ভারতের অন্যত্রও সাম্প্রদায়িকতার আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
(চ) আপাতদৃষ্টিতে পাকিস্তান আন্দোলনে জয়যুক্ত হলেও মহম্মদ আলি জিন্না কাঁটার মুকুট পরেছিলেন । তিনি চেয়ে ছিলেন সমগ্র বাংলা ও পাঞ্জাব আত্মসাৎ করতে কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁকে দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে শুধুমাত্র ভারত বিভাগ নয়, বাংলা ও পাঞ্জাব বিভাগও মেনে নিতে হয়েছিল ।
সুতরাং দেখা যায়, মুসলিম লিগ অনুসৃত সাম্প্রদায়িক রাজনীতি ভারতীয় জাতীয়তাবাদের সম্মুখে এক নিদারুণ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছিল এবং ভারতীয় রাজনীতিকে জটিল করে তুলে ছিল ।
প্রশ্ন:- (২৮) মুসলিম লিগের লাহোর অধিবেশন কত খ্রিস্টাব্দে অনুষ্ঠিত হয় ? এই অধিবেশনে কী প্রস্তাব গ্রহণ করা হয় ?
উত্তর:- ১৯৪০ খ্রিস্টাব্দের আগস্ট মাসে মুসলিম লিগের লাহোর অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
এই অধিবেশনে গৃহীত প্রস্তাব:-
মুসলিম লিগের লাহোর অধিবেশনে দ্বিজাতীতত্ত্বের ভিত্তিতে অবিভক্ত ভারতবর্ষের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রদেশগুলিকে নিয়ে ভারতীয় মুসলমানদের জন্য একটি পৃথক সার্বভৌম মুসলিম রাষ্ট্রগঠনের দাবি করে প্রস্তাব গ্রহণ করা হয় । এই প্রস্তাবটি ‘লাহোর প্রস্তাব’ বা ‘পাকিস্তান প্রস্তাব’ নামে পরিচিত ।
****
- 1857 views