ভারতের লৌহ-ইস্পাত শিল্প [Iron and Steel Industry of India] :- লৌহ-ইস্পাত শিল্পের উল্লেখযোগ্য কাঁচামাল হল : (i) আকরিক লোহা, (ii) কয়লা, (iii) ম্যাঙ্গানিজ, (iv) চুনাপাথর, (v) ডলোমাইট, (vi) ক্রোমিয়াম, (vii) টাংস্টেন, (viii) নিকেল, (ix) প্রচুর বিদ্যুৎ, (x) অপর্যাপ্ত জল ।
লৌহ-ইস্পাত শিল্পের অনুকূল ভৌগোলিক অবস্থান : কোনও স্থানে বৃহদায়তন লৌহ-ইস্পাত কারখানা স্থাপনের জন্য প্রয়োজন : (i) লৌহ-ইস্পাত শিল্পের প্রধান উপাদান আকরিক লোহা ও কয়লা খনির নৈকট্য, (ii) অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পদার্থ ম্যাঙ্গানিজ, চুনাপাথর, ডলোমাইট, ক্রোমিয়াম, টাংস্টেন ও নিকেল খনির নৈকট্য ও সহজ লভ্যতা, (iii) অপর্যাপ্ত জল সরবরাহ, (iv) অত্যাধুনিক কারিগরি ও প্রযুক্তি জ্ঞান, (v) ভারী কাঁচামাল ও ইস্পাত পরিবহনের উপযোগী ভালো রাস্তাঘাট ও রেল যোগাযোগ, (vi) সুলভ, দক্ষ ও শৃঙ্খলাপরায়ণ শ্রমিকের যোগান, (vii) আমদানি ও রপ্তানির সুবিধার জন্য বন্দরের নৈকট্য, (viii) কঠোর শ্রমের উপযোগী জলবায়ু, (ix) মূলধনের প্রাচুর্য, (x) দক্ষ পরিচালক, (xi) রাজনৈতিক পরিবেশের সুস্থিতি এবং (xii) লৌহ-ইস্পাত শিল্পের চাহিদা ।
♦ প্রথম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা কালে (১৯৫১ সাল থেকে ১৯৫৬ সাল পর্যন্ত ) ভারতের লৌহ-ইস্পাত শিল্পে বিশেষ উন্নতি হয় নি । এই সময় বেসরকারি মালিকানাধীন জামসেদপুর ও বার্ণপুর ইস্পাত কারখানা দুটির সম্প্রসারণ এবং উন্নয়ন করা হয়েছিল ।
♦ দ্বিতীয় পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা কালে (১৯৫৬ সাল থেকে ১৯৬১ সাল পর্যন্ত ) ভারতের লৌহ-ইস্পাত শিল্পের প্রকৃত উন্নতি শুরু হয় । এই সময়েই ভারত সরকারের উদ্যোগে সরকারি মালিকানায় (i) পশ্চিমবঙ্গের দুর্গাপুর, (ii) ওড়িশার রাউরকেল্লা এবং (iii) ছত্রিশগড়ের ভিলাই কারখানা তিনটি স্থাপিত হয় ।
♦ তৃতীয় পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা কালে (১৯৬১ সাল থেকে ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত ) সরকারি উদ্যোগে এবং সোভিয়েত রাশিয়ার সহযোগিতায় ঝাড়খন্ডের রাজ্যের বোকারোতে আরও একটি লৌহ ইস্পাত কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হলেও এই সময়কালের মধ্যে এটির নির্মাণ কার্য শেষ করা সম্ভব হয়নি।
♦ চতুর্থ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা কালে (১৯৬৯ সাল থেকে ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত) (i) তামিলনাড়ুর সালেম, (ii) কর্ণাটকের বিজয়নগর এবং (iii) অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমে তিনটি নতুন ইস্পাত কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয় । এই সময়ে বোকারো লৌহ-ইস্পাত কারখানায় উৎপাদন শুরু হয় ।
♦ পঞ্চম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা কালে (১৯৭৪ সাল থেকে ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত ) দুর্গাপুর, ভদ্রাবতী ও সালেমে সংকর ইস্পাতের উৎপাদন বৃদ্ধির পরিকল্পনা করা হয় ।
♦ ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা কালে (১৯৮০ সাল থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত ) বোকারো ও ভিলাই ইস্পাত কারখানার সম্প্রসারণের কাজ হাতে নেওয়া হয় । এই সময়কালে ১৯৮২ সালে সালেমের সংকর ইস্পাত ও স্টেনলেস স্টিল কারখানাটির নির্মাণ কাজ শেষ হয়, এছাড়া এই পরিকল্পনা কালে ওড়িশার দৈতারিতে নতুন একটি ইস্পাত কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হলেও এটি এখনও গড়ে ওঠেনি ।
♦ সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা কালে (১৯৮৫ সাল থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত ) বোকারো, ভিলাই ও জামসেদপুর কারখানা তিনটির সম্প্রসারণ এবং বিশাখাপত্তনম কারখানাটির প্রথম পর্যায়ের নির্মাণ কাজ সমাপ্ত হয় ।
♦ অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা কালে (১৯৯০ সাল থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত ) সরকারি নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনে দেশে লৌহ-ইস্পাত কেন্দ্র স্থাপনে সরকারি অনুমোদনের প্রয়োজনীয়তা বাতিল করা হয় এবং বেসরকারি উদ্যোগকে উৎসাহিত করা হয় । এই সময় দুর্গাপুর, রাউরকেল্লা এবং জামসেদপুর কারখানা তিনটির আধুনিকীকরণের কাজ হাতে নেওয়া হয় । এছাড়া এই পরিকল্পনা কালে ১৯৯২ সালে বিশাখাপত্তনম লৌহ-ইস্পাত কারখানাটি উৎপাদন শুরু করে ।
***
- 1185 views