অধ্যায়ভিত্তিক প্রশ্নোত্তর:[৭ম অধ্যায়- ১ম অংশ]

Submitted by administrator on Mon, 10/28/2013 - 17:21

উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরের প্রধান স্রোতসমূহের পরিচয় দাও

উত্তর: পৃথিবীর বৃহত্তম মহাসাগরের মোট আয়তন পৃথিবীর সমস্ত স্থলভাগের মিলিত আয়তনের চেয়েও বেশি । প্রশান্ত মহাসাগরকে দেখতে অনেকটা ত্রিভূজের মতো । এই মহাসাগরের নিরক্ষরেখার উত্তরের অংশ উত্তর প্রশান্ত মহাসাগর এবং দক্ষিণের অংশ দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগর নামে পরিচিত ।

প্রশান্ত মহাসাগরের উত্তর অংশের প্রধান স্রোতগুলি হল:-

১) উত্তর নিরক্ষীয় স্রোত: উত্তর-পূর্ব আয়নবায়ুর প্রভাবে প্রশান্ত মহাসাগরে উষ্ণ উত্তর নিরক্ষীয় স্রোতের উৎপত্তি হয়েছে । এই স্রোতটি উত্তর আমেরিকা মহাদেশের পশ্চিম উপকূল থেকে এশিয়া মহাদেশের দিকে প্রবাহিত হয় ।

২) উষ্ণ কুরোশিয়ো বা জাপান স্রোত: উত্তর নিরক্ষীয় স্রোত ইন্দোনেশিয়ার কাছে এসে উত্তরমুখী হয়ে উষ্ণ কুরোশিয়ো স্রোত বা জাপান স্রোত নামে এশিয়া মহাদেশের জাপান ও তাইওয়ানের পূর্ব উপকূল ধরে উত্তরে প্রবাহিত হয় ।

৩) সুসিমা স্রোত: জাপান স্রোতের একটি শাখা জাপানের পশ্চিম উপকূল বরাবর উত্তর দিকে অগ্রসর হয় । একে সুসিমা স্রোত বলে ।

৪) উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরীয় স্রোত: পশ্চিমাবায়ুর প্রভাবে জাপান স্রোতের অপর শাখা উষ্ণ উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরীয় স্রোত নামে জাপানের পূর্ব উপকূল থেকে উত্তর আমেরিকা মহাদেশের পশ্চিম উপকূলের দিকে প্রবাহিত হয় ।

দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরের বিভিন্ন স্রোতের বর্ণনা দাও

উত্তর:- পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম মহাসাগর আটলান্টিক মহাসাগরের আকৃতি অনেকটা ইংরেজি ‘s’ অক্ষরের মতো । আটলান্টিক মহাসাগরের পূর্বে ইউরোপ ও আফ্রিকা মহাদেশ, পশ্চিমে উত্তর আমেরিকা ও দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশ, উত্তরে সুমেরু মহাসাগর এবং দক্ষিণে কুমেরু মহাসাগর অবস্থিত ।

১) দক্ষিণ নিরক্ষীয় স্রোত (উষ্ণ) : উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব আয়ন বায়ুর প্রভাবে আটলান্টিক মহাসাগরে উত্তর ও দক্ষিণ নিরক্ষীয় স্রোত নামে দুটি উষ্ণ স্রোতের সৃষ্টি হয় । এই স্রোত দুটি মোটামুটি পশ্চিমমুখী ।

২) ব্রাজিল স্রোত (উষ্ণ) : বেঙ্গুয়েলা স্রোত ও দক্ষিণ নিরক্ষীয় স্রোতের মিলিত শাখা পশ্চিমমুখী হয়ে দক্ষিণ আমেরিকার সেন্টরক অন্তরীপে প্রতিহত হয়ে দক্ষিণ ও উত্তর এই দুটি শাখায় ভাগ হয়ে যায়, যেমন- ১) দক্ষিণ শাখাটি ব্রাজিল স্রোত নামে ব্রাজিলের পূর্ব উপকূল বরাবর অগ্রসর হয়ে কুমেরু স্রোতের সঙ্গে পুনরায় মিলিত হয় আর ২) উত্তর শাখাটি উত্তর নিরক্ষীয় স্রোতের সঙ্গে মিশে যায় ।

৩) কুমেরু স্রোত ও ৪) ফকল্যান্ড স্রোত (শীতল): কুমেরু নিকটবর্তী দক্ষিণ সাগর থেকে আসা অতি শীতল কুমেরু স্রোতটি দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরে প্রবেশ করে এবং উওর দিকে প্রবাহিত হয়ে দুটি শাখায় বিভক্ত হয়ে যায়, যেমন:

১) অপ্রধান শাখাটি ফকল্যান্ড স্রোত নামে দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের পূর্ব উপকূল বরাবর উত্তর দিকে প্রবাহিত হয় এবং ২) প্রধান শাখাটি কুমেরু স্রোত নামে পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয় ।

৫) বেঙ্গুয়েলা স্রোত: কুমেরু স্রোতের প্রধান শাখাটি আফ্রিকার পশ্চিম উপকূলে বাধা পেয়ে ওই উপকূল বরাবর উত্তর দিকে প্রবাহিত হয় এবং অবশেষে উষ্ণ দক্ষিণ নিরক্ষীয় স্রোতের সঙ্গে মিশে যায় ।

কীভাবে মগ্নচড়া সৃষ্টি হয় ?

উত্তর: শীতল স্রোতের মিলনস্থলে শীতল স্রোত বাহিত হিমশৈল উষ্ণ স্রোতের সমুদ্র সংস্পর্শে এসে গলে যায় এবং হিমশৈল বাহিত কাদা ও শিলা সমুদ্রের তলদেশে সঞ্চিত হয়ে আটলান্টিক মহাসাগরে মগ্নচড়ার সৃষ্টি করে ।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, সুমেরু বৃত্ত থেকে আগত হিমশীতল লাব্রাডর স্রোতের সঙ্গে আসা হিমশৈলগুলোর মধ্যে ছোটো বড়ো শিলাখন্ড, নুড়ি, কাঁকর ও কাদা মিশ্রিত থাকে । নিউফাউল্যান্ডের কাছে শীতল লাব্রাডর স্রোতের সঙ্গে উষ্ণ উপসাগরীয় স্রোতের মিলন স্থলে এই স্রোতের সঙ্গে ভেসে আসা হিমশৈলগুলো গলে যায় । এই সব হিমশৈলগুলোর মধ্যে থাকা নুড়ি, পাথর, কাঁকড়, কাদা প্রভৃতি থিতিয়ে পড়ে নিউফাউল্যান্ডের পূর্ব-উপকূলে সমুদ্রবক্ষে সঞ্চিত হয়ে ‘গ্রান্ড ব্যাঙ্ক, নামে বিখ্যাত মগ্নচড়ার সৃষ্টি করেছে ।

মগ্নচড়াগুলি মৎস্য চাষের অনুকূল

১) মগ্নচড়া অঞ্চলগুলি অগভীর হওয়ায় এবং নাতিশীতোষ্ণ মণ্ডলে অবস্থিত হওয়ায় এখানে মাছের বসবাসের উপযোগী অনুকূল তাপমাত্রা পাওয়া যায়;

২) মগ্নচড়া অঞ্চলগুলির উষ্ণ ও শীতল স্রোতের সংযোগস্থলে প্ল্যাঙ্কটন নামে এক ধরনের আণুবীক্ষণিক জীব প্রচুর পরিমাণে জন্মায় যা মাছের প্রধান খাদ্য । অর্থাৎ মাছের বসবাসের উপযোগী অনুকূল উষ্ণতা ও খাদ্যের অফুরন্ত যোগান থাকাতে মগ্নচড়াগুলিতে প্রচুর মাছ পাওয়া যায় । এই জন্যই মগ্নচড়াগুলি মৎস্য চাষের পক্ষে অনুকূল হয়েছে । উদাহরণ:-নিউফাউন্ডল্যান্ডের পূর্ব উপকূলে অবস্থিত আটলান্টিক মহাসাগরের গ্রান্ড ব্যাঙ্ক নামে মগ্নচড়াটি হল পৃথিবীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মৎস্য চাষ কেন্দ্র ।

গ্রান্ড ব্যাঙ্ক অথবা, গ্রান্ড ব্যাঙ্ক মৎস্যচাসের জন্য অনুকূল

উত্তর: পৃথিবীর অন্যতম প্রধান মৎস্যশিকার ক্ষেত্র গ্রান্ড ব্যাঙ্ক আসলে একটি অগভীর মগ্নচড়া । নিঊ ফাউল্যান্ডের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত উত্তর আমেরিকা মহাদেশের উত্তর-পূর্ব উপকূল বা আটলান্টিক মহাসাগরের উত্তর-পশ্চিম উপকূলের বিশাল মহীসোপান অঞ্চলে গ্রান্ড ব্যাঙ্ক মগ্নচড়াটি অবস্থিত ।

শিতল লাব্রাডর স্রোতের সঙ্গে সুমেরুবৃত্ত থেকে আসা হিমশৈলগুলোর মধ্যে ছোটো বড়ো শিলাখন্ড, নুড়ি, কাঁকর এবং কাদা মিশ্রিত থাকে । শীতল লাব্রাডার স্রোত যখন নিউ ফাউল্যান্ডের কাছে উষ্ণ উপসাগরীয় স্রোতের সংস্পর্শে এসে গলে যায় । এই সব হিমশৈলের মধ্যে থাকা ছোটো-বড়ো পাথর, নুড়ি, কাদা প্রভৃতি থিতিয়ে পড়ে নিউ ফাউল্যান্ডের পূর্ব উপকূলের সমুদ্র বক্ষে সঞ্চিত হয়ে ‘গ্রান্ড ব্যাঙ্ক’ নামে অগভীর মগ্নচড়াটির সৃষ্টি করেছে । গ্রান্ড ব্যাঙ্কের জলের গভীরতা ২০০ মিটার এবং আয়তন প্রায় ৩৭ হাজার বর্গকিলোমিটার ।

গ্রান্ড ব্যাঙ্কে মৎস্য চাষের অনুকূল পরিবেশের কারণ:-

১) গ্রান্ড ব্যাঙ্ক নামে মগ্নচড়াটি অগভীর হওয়ায় এবং নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ু অঞ্চলে অবস্থান করার জন্য এখানে মাছের বসবাসের অনুকূল তাপমাত্রা পাওয়া যায় ।

২) উষ্ণ ও শীতল স্রোতের সংযোগস্থলে প্লাঙ্কটন নামে এক ধরনের অতি ক্ষুদ্র আণুবীক্ষণিক জীব প্রচুর পরিমাণে জন্মায়, কারণ গ্রান্ড ব্যাঙ্ক-এ যে প্রচুর জৈব খাদ্য পাওয়া যায় তা প্লাঙ্কটনের প্রধান খাদ্য । এই প্লাঙ্কটন আবার মাছের প্রধান খাদ্য । গ্রান্ড ব্যাঙ্কে যেসব মাছ পাওয়া যায় তাদের মধ্যে কড, হেরিং, ম্যাকারেল, হ্যাডক, হ্যালিবাট প্রভৃতি মাছ উল্লেখযোগ্য । এছাড়া গ্রান্ড ব্যাঙ্ক অঞ্চলটি পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ কডমাছ শিকারকেন্দ্র হিসেবেও খ্যাত ।

নিউফাউন্ডল্যান্ড ও জাপানের কাছে বছরের প্রায় সবসময় কুয়াশা জমে থাকে ।

উত্তর: উষ্ণ ও শীতল সমুদ্রস্রোতের উষ্ণতার তারতম্যের জন্য এবং অল্পস্থানের মধ্যে উষ্ণতার পরিবর্তনের জন্য উষ্ণ ও শীতল সমুদ্রস্রোতের মিলন স্থানে কুয়াশার সৃষ্টি হয় । নিউফাউল্যান্ডের পাশ দিয়ে উষ্ণ উপসাগরীয় স্রোত ও বিপরীতমুখী শীতল লাব্রাডর স্রোত প্রবাহিত হওয়ার জন্য নিউফাউন্ডল্যান্ডের উপকূলে সারা বছর কুয়াশা সৃষ্টি হয় । একই ভাবে জাপানের কাছে প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণ কুরেশিয়ো বা জাপান স্রোত এবং শীতল ওয়াশিয়ো স্রোতের মিলনস্থলে বছরের প্রায় সবসময় কুয়াশা জমে থাকে ।

শৈবাল সাগর কীভাবে সৃষ্টি হয় ?

উত্তর: আটলান্টিক মহাসাগরের দক্ষিণ-পশ্চিমে ১) উষ্ণ উপসাগরীয় স্রোত, ২) উত্তর নিরক্ষীয় স্রোত এবং ৩) ক্যানারি স্রোত মিলিত হয়ে কয়েক হাজার বর্গ কিলোমিটার বিস্তৃত এলাকা জুড়ে একটি ঘূর্ণস্রোত বা জলাবর্তের সৃষ্টি করে । এই বিশাল জলাবর্তের মাঝখানে কোনোরকম জলপ্রবাহ থাকে না বলে স্রোতবিহীন এই অঞ্চলে নানারকম শৈবাল বা শেওলা, আগাছা ও জলজ উদ্ভিদ জন্মায় । এইজন্য এই অঞ্চলকে শৈবাল সাগর বলা হয় । আটলান্টিক মহাসাগর ছাড়াও উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরেও ১) উত্তর প্রশান্ত-মহাসাগরীয় স্রোত, ২) কুরোশিয়ো বা জাপান স্রোত, ৩) উত্তর নিরক্ষীয় স্রোত এবং ৪) ক্যালিফোর্নিয়া স্রোতের মাঝখানে প্রকান্ড একটি শৈবাল সাগর দেখা যায় ।

হিমশৈল: বিশালাকৃতি বরফের স্তূপ যখন সমুদ্রের জলে ভাসতে থাকে, তখন তাকে হিমশৈল বলে । চিরতুষারময় সুমেরুবৃত্তের মধ্যে অবস্থিত হওয়ার বছরের বেশিরভাগ সময়েই বরফে ঢাকা সুমেরু মহাসাগর থেকে আগত লাব্রাডর স্রোতের সঙ্গে এই মহাসাগরের উপকূলীয় হিমবাহগুলো থেকে বিশাল আকৃতির বরফের স্তূপ বিচ্ছিন্ন হয়ে ভেসে আসে । সমুদ্রের জলে ভাসমান এই ধরনের প্রকান্ড বরফের স্তূপকে হিমশৈল বলে । এই সব বিশাল হিমশৈলের মাত্র ১/৯ ভাগ অংশ সমুদ্রের জলের ওপরে থাকে । এই রকম একটি হিমশৈলের সঙ্গে ধাক্কা লেগেই বিখ্যাত জাহাজ টাইটানিক তার প্রথম যাত্রাতেই গভীর সমুদ্রে ডুবে যায় ।

উপসাগরীয় স্রোত কী ?

উত্তর: আটলান্টিক মহাসাগরের মাঝখানে উত্তর ও দক্ষিণ নিরক্ষীয় স্রোতের মিলিত জলরাশি মেক্সিকো উপসাগরে প্রবেশ করে তার জলের পরিমাণ বাড়ায় । মেক্সিকো উপসাগর থেকে প্রচুর জলরাশি নিয়ে বেরোবার সময় এই স্রোত সংকীর্ণ ফ্লোরিডা প্রণালীতে প্রবাহিত হয়ে যে উষ্ণ স্রোতের সৃষ্টি করে সেই স্রোতই বিখ্যাত “উপসাগরীয় স্রোত” নামে পরিচিত । এই স্রোত সংকীর্ণ ফ্লোরিডা প্রণালী দিয়ে ঘন্টায় ৮ কিমি বেগে প্রবাহিত হয় । পৃথিবীর অন্যতম প্রবল সমুদ্রস্রোত, উপসাগরীয় স্রোতের রং গাঢ় নীল, প্রকৃতিতে বেশ উষ্ণ (উষ্ণতা ২৭.০২° সেলসিয়াস), বিস্তার ৬৪ কিলোমিটার ও গভীরতা ৯১৪ মিটার ।

উপসাগরীয় স্রোতের উত্তর শাখা উত্তর আটলান্টিক স্রোত নামে উত্তর-পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয় এবং দক্ষিণ শাখাটি পোর্তুগালের উপকূলে বাধা পেয়ে ক্যানারি স্রোত নামে উত্তর নিরক্ষীয় স্রোতের সঙ্গে মেশে । উপসসাগরীয় স্রোত এবং উত্তর স্রোতের মিলিত প্রবাহের উত্তর শাখা ইরমিঙ্গার স্রোত নামে উত্তরে প্রবাহিত শীতল লাব্রাডর স্রোতের সঙ্গে মিলিত হয় ।

হিমপ্রাচীর কী ?

উত্তর আটল্যান্টিক মহাসাগরে সুমেরু অঞ্চল থেকে আগত লাব্রাডর স্রোতের শীতল ও গাঢ় সবুজ রঙের জল এবং উপসাগরীয় স্রোতের উষ্ণ ও গাঢ় নীল জল বেশ কিছু দূর পর্যন্ত পাশাপাশি কিন্তু বিপরীত দিকে প্রবাহিত হয়েছে । এই দুই বিপরীতমুখী স্রোতের মাঝে একটি নির্দিষ্ট সীমারেখা স্পষ্ট দেখা যায়, এই সীমারেখাকে হিমপ্রাচীর বলে । কানাডা ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব সীমান্তে অবস্থিত আটলান্টিক মহাসাগরে হিমপ্রাচীরের সীমারেখা বহুদূর পর্যন্ত স্পষ্ট দেখা যায় । বিপরীতমুখী দুই সমুদ্রস্রোতের উষ্ণতার পার্থক্যের জন্য এই অঞ্চলে প্রায়ই ঘন কুয়াশা ও প্রবল ঝড়বৃষ্টি হয় ।

প্রশান্ত মহাসাগর ও আটলান্টিক মহাসাগরের স্রোতের কয়েকটি সাদৃশ্য

প্রশান্ত মহাসাগরীয় স্রোতআটলান্টিক মহাসাগরীয় স্রোত
সমুদ্রস্রোতপ্রকৃতিবৈশিষ্ট্যসমুদ্র স্রোতপ্রকৃতিবৈশিষ্ট্য
১) পেরু স্রোতশীতলদক্ষিণ মহাসাগর থেকে দক্ষিণ আমেরিকার দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে প্রতিহত হয়ে উত্তরে চিলি উপকূল বেয়ে প্রবাহিত হয় ।

১) বেঙ্গুয়েলা

স্রোত

শীতলদক্ষিণ মহাসাগর থেকে এসে আফ্রিকার দক্ষিণ পশ্চিম উপকূল বেয়ে আটলান্টিক মহাসাগরে প্রবেশ করে পশ্চিমে বেঁকে দক্ষিণ নিরক্ষীয় স্রোতের সঙ্গে মেশে ।

২) নিরক্ষীয়

স্রোত

উষ্ণআয়নবায়ুর প্রভাবে নিরক্ষরেখার উত্তর ও দক্ষিণে উৎপন্ন হয়ে যথাক্রমে উত্তর ও দক্ষিণ নিরক্ষীয় স্রোত নামে পূর্ব থেকে পশ্চিম দিকে প্রবাহিত হয় ।

২) নিরক্ষীয়

স্রোত

উষ্ণদক্ষিণ-পূর্ব আয়নবায়ুর প্রভাবে নিরক্ষরেখার উত্তর ও দক্ষিণে উৎপন্ন হয়ে যথাক্রমে উত্তর ও দক্ষিণ নিরক্ষীয় স্রোত নামে পূর্ব থেকে পশ্চিমে প্রবাহিত হয় ।

৩) পূর্ব অস্ট্রেলীয়

স্রোত

উষ্ণদক্ষিণ নিরক্ষীয় স্রোতের এই শাখাটি অস্ট্রেলিয়ার উত্তর দিয়ে পশ্চিমমুখী হয়ে ভারত মহাসাগরে প্রবেশ করে ।

৩) ব্রাজিল

স্রোত

উষ্ণবেঙ্গুয়েলা স্রোত ও দক্ষিণ নিরক্ষীয় স্রোতের এই মিলিত শাখাটি ব্রাজিলের পূর্ব উপকূল বরাবর দক্ষিণে প্রবাহিত হয় ।

৪) কু্রেশিয়ো বা

জাপান স্রোত

উষ্ণউত্তর নিরক্ষীয় স্রোতটি আয়নবায়ুর প্রভাবে এশিয়ার পূর্ব উপকূলে বাধা পেয়ে উত্তরমূখী হয়ে জাপানের পূর্ব উপকূল বেয়ে কুরেশিয়ো বা জাপান স্রোত নামে আরও উত্তরের দিকে প্রবাহিত হয় ।৪) উপসাগরীয় স্রোতউষ্ণবেঙ্গুয়েলা স্রোত ও দক্ষিণ নিরক্ষীয় স্রোতের মিলিত উত্তর শাখাটি দক্ষিণ আমেরিকার উত্তর-পূর্ব উপকূল ধরে ক্যারিবিয়ান সাগরে প্রবেশ করে এবং উত্তর নিরক্ষীয় স্রোতের দক্ষিণ-শাখার সঙ্গে মিলিত হয়ে মেক্সিকো উপসাগরে প্রবেশ করে বিখ্যাত ‘উপসাগরীয় স্রোত’ নামে প্রবাহিত হয় ।

৫) উত্তর প্রশান্ত

মহাসাগরীয় স্রোত

উষ্ণজাপান স্রোতের প্রধান শাখাটি উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরীয় স্রোত নামে পূর্ব ও উত্তর-পূর্বে প্রবাহিত হয়ে কানাডার পশ্চিম উপকূল বরাবর প্রবাহিত হয় ।

৫) উত্তর আটলান্টিক

স্রোত

উষ্ণউপসাগরীয় স্রোত ও উত্তর নিরক্ষীয় স্রোতের মিলিত স্রোত প্রবাহের প্রধান ও প্রশান্ত শাখা উত্তর-পশ্চিম ইউরোপ ও ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জের পশ্চিম উপকূল বরাবর প্রবাহিত হয় ।

৬) ক্যালিফোর্নিয়া

স্রোত

উষ্ণউত্তর প্রশান্ত মহাসাগরীয় স্রোতের একটি শাখা ক্যালিফোর্নিয়ার কাছে দক্ষিণে প্রবাহিত হয়ে নিরক্ষীয় স্রোতের সঙ্গে মিশে যায় ।৬) ক্যানারি স্রোতউষ্ণউপসসাগরীয় স্রোত ও উত্তর নিরক্ষীয় স্রোতের মিলিত প্রবাহের দক্ষিণ শাখা পর্তুগালের কাছে প্রথমে দক্ষিণে এবং পরে পশ্চিমে ডিম্বাকারে বেঁকে ক্যানারি স্রোত নামে উত্তর নিরক্ষীয় স্রোতের সঙ্গে মিলিত হয় ।

৭) কামচটকা

স্রোত

শীতলসুমেরু মহাসসাগর থেকে এই শীতল স্রোতটি কামচটকার কাছ দিয়ে প্রবাহিত হয়ে প্রশান্ত মহাসাগরের দিকে প্রবাহিত হয় ।৭) লাব্রাডর স্রোতশীতলসুমেরু মহাসাগর থেকে দুটি শীতল স্রোত গ্রীনল্যান্ডের পশ্চিম ও পূর্ব প্রান্ত দিয়ে প্রবাহিত হয়ে লাব্রাডর উপদ্বীপের কাছে মিলিত হয় এবং এই মিলিত স্রোত প্রবাহকে লাব্রাডর স্রোত বলে ।
৮) শৈবাল সাগরস্রোতহীনজাপান স্রোত, উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরীয় স্রোত এবং ক্যালিফোর্নিয়া স্রোতের মধ্যবর্তী স্রোতহীন জলাবর্ত ।৮) শৈবাল সাগরস্রোতহীনউপসাগরীয় স্রোত, উত্তর আটলান্টিক স্রোত এবং ক্যানারি স্রোতের মধ্যবর্তী স্রোতহীন জলাবর্ত ।

৯) জাপান স্রোত

ও বেরিং স্রোতের

মিলনস্থল ।

উষ্ণ ও শীতলউষ্ণ জাপান স্রোত ও শীতল বেরিং স্রোতের মিলনস্থলে হিমপ্রাচীর, মগ্নচড়া, ঝড়ঝঞ্জা ও ঘন কুয়াশার সৃষ্টি হয় ।

৯) উপসাগরীয় স্রোত

ও লাব্রাডর স্রোতের

মিলনস্থল ।

উষ্ণ ও শীতলউষ্ণ উপসাগরীয় স্রোত ও শীতল লাব্রাডর স্রোতের মিলনস্থলে হিমপ্রাচীর, মগ্নচড়া, ঝড়ঝঞ্জা ও ঘন কুয়াশার সৃষ্টি হয় ।

☼ একই অক্ষাংশে অবস্থিত হলেও ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জের উপকূল সারা বছর ধরে বরফমুক্ত থাকে, কিন্তু লাব্রাডর উপকূলে বছরে প্রায় নয় মাস বরফ জমে থাকে কেন ?

উত্তর: ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জ এবং লাব্রাডর উপকূল একই অক্ষাংশে অবস্থিত হলেও উষ্ণ উপসাগরীয় স্রোতের প্রভাবে ব্রিটীশ দ্বীপপুঞ্জের নিকটস্থ সমুদ্রে বরফ জমে না । কিন্তু হিম শীতল লাব্রাডর স্রোতের প্রভাবে লাব্রাডর উপকূলে বছরে প্রায় নয় মাস বরফ জমে থাকে ।

***

Related Items

অধ্যায়ভিত্তিক প্রশ্নোত্তর:[৪র্থ অধ্যায়- ১ম অংশ]

☼ বায়ুমণ্ডল: ভূপৃষ্ঠ থেকে ঊর্ধ্বে যে অদৃশ্য গ্যাসের আবরণ পৃথিবীকে বেষ্টন করে আছে, তাকে বায়ুমণ্ডল বলে । বায়ুমণ্ডলকে চোখে দেখা যায় না, তবু আমরা এর অস্তিত্ব অনুভব করতে পারি । পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তির জন্য বায়ুমণ্ডল পৃথিবীর আবর্তনের সঙ্গে আবর্তিত হতে থাকে । ১) বিভিন্ন ধরনের গ্যাস,

অধ্যায়ভিত্তিক প্রশ্নোত্তর:[৩য় অধ্যায়- ২য় অংশ]

প্রশ্ন:-১. বায়ুর কাজ কোথায় বেশি দেখা যায় ?

প্রধানত মরুভূমি অঞ্চলেই বায়ুর ক্ষয়কাজ সবচেয়ে বেশি হয় । এর কারণ হল:-