জৈব এবং অজৈব যৌগের মধ্যে তুলনা

Submitted by administrator on Thu, 04/18/2013 - 08:40

জৈব এবং অজৈব যৌগের মধ্যে তুলনা [Difference between Organic and Inorganic Compounds]:-

জৈব যৌগঅজৈব যৌগ

[১] সমস্ত জৈব যৌগের অণুতে কার্বন থাকবেই । যেমন: CH4, C2H3OH ইত্যাদি ।

[১] অজৈব যৌগের অণুতে কার্বন থাকতে পারে আবার নাও থাকতে পারে । অজৈব যৌগ সব রকম মৌল দিয়ে গঠিত হতে পারে । যেমন: NH3, CO2 ইত্যাদি ।

[২] জৈব যৌগগুলি সমযোজ্যতা দ্বারা গঠিত । সুতরাং, জৈব যৌগগুলি সমযোজী : যেমন: মিথেন, ইথেন, প্রপেন, অ্যাসিটিলিন ইথিলিন, বেনজিন, মিথাইল অ্যালকোহল, ভিনিগার প্রভৃতি ।[২] অজৈব যৌগগুলি সাধারণত তড়িৎযোজী বন্ধনের দ্বারা আবদ্ধ : যেমন, সোডিয়াম ক্লোরাইড, ক্যালশিয়াম অক্সাইড, ক্যালশিয়াম ক্লোরাইড ইত্যাদি । অজৈব যৌগগুলি তড়িৎযোজী হতে পারে আবার সমযোজীও হতে পারে ।

[৩] সমযোজী বন্ধনের দরুন জৈব যৌগের বিক্রিয়া মন্থর হয় ।

[৩] আয়নিক বন্ধনের দরুন অজৈব যৌগের বিক্রিয়া দ্রুত হয় ।
[৪] সাধারণত জৈব যৌগের গলনাঙ্ক এবং স্ফুটনাঙ্ক অজৈব যৌগের তুলনায় অপেক্ষাকৃত কম, তাদের উদ্বায়ীতাও বেশি । [৪] অজৈব যৌগের গলনাঙ্ক এবং স্ফুটনাঙ্ক জৈব যৌগের তুলনায় অনেক বেশি । এগুলি সাধারণত অনুদ্বায়ী ।

[৫] বৈশিষ্ট সূচক বর্ণ ও গন্ধযুক্ত ।

[৫] বর্ণহীন ও গন্ধহীন ।

[৬] জৈব যৌগগুলি সাধারণত জৈব দ্রাবকে দ্রবীভূত হয় । এরা সাধারণত জলে অদ্রাব্য । অর্থাৎ, জৈব যৌগগুলি সাধারণত অধ্রুবীয় দ্রাবকে দ্রাব্য এবং ধ্রুবীয় দ্রাবকে অদ্রাব্য । (কিছু জৈব যৌগ অবশ্য জলে দ্রাব্য) ।

[৬] অজৈব যৌগগুলি সাধারণত জল এবং সমধর্মী দ্রাবকে দ্রবীভূত হয় এবং এরা জৈব দ্রাবকে অদ্রাব্য । অর্থাৎ, অজৈব যৌগগুলি সাধারণত ধ্রুবীয় দ্রাবকে দ্রাব্য এবং অধ্রুবীয় দ্রাবকে অদ্রাব্য ।

[৭] জৈব যৌগগুলি দাহ্য প্রকৃতির হয় । সাধারণত কম সংখ্যক কার্বন পরমাণুযুক্ত যৌগগুলি অদীপ্ত শিখায় জ্বলে । আবার বেনজিন প্রভৃতি বেশি কার্বনযুক্ত যৌগগুলি ধোঁয়াটে শিখায় জ্বলে ।

[৭] অজৈব যৌগগুলি সাধারণত দাহ্য নয় ।

[৮] জৈব যৌগগুলি অনেকক্ষেত্রে পলিমারাইজেশন বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে । আমাদের দৈনন্দিন ব্যবহৃত বস্তুর বেশির ভাগই জৈব পলিমার । যেমন— চাল, ময়দা, আলু, কাগজ জামা-কাপড়, প্লাস্টিক, ইত্যাদি ।

[৮] অজৈব যৌগের ক্ষেত্রে পলিমারাইজেশন বিক্রিয়া খুবই কম ।
[৯] তড়িৎ-অবিশ্লেষ্য যৌগ । [৯] আয়নিক বন্ধনযুক্ত যৌগগুলি তড়িৎ-বিশ্লেষ্য যৌগ ।
[১০] কার্বন পরমাণুর ক্যাটিনেশন ধর্মের জন্য জৈব যৌগের কার্বন পরমাণুগুলি পরস্পর যুক্ত হয়ে অতিদীর্ঘ কার্বন শৃঙ্খল গঠনের মাধ্যমে বেশি আণবিক গুরুত্ব বিশিষ্ট যৌগ উত্পন্ন করতে পারে । [১০] অজৈব যৌগের অণুর গঠন অপেক্ষাকৃত সরল এবং আণবিক গুরুত্ব জৈব যৌগের তুলনায় কম ।
[১১] জৈব যৌগের অণু-সংযোজন বিক্রিয়ার সাহায্যে বেশি আণবিক গুরুত্ব বিশিষ্ট যৌগ উত্পন্ন হয় ।[১১] অজৈব যৌগে অণু-সংযোজন বিক্রিয়া সাধারণত দেখা যায় না ।

***

Related Items

জীবনক্রিয়ায় জৈব যৌগের ভুমিকা

প্রাণী বা উদ্ভিদের দেহের বেশির ভাগ অংশ জৈব যৌগ দিয়ে গঠিত । তাই জীব জগতে জৈব যৌগের দান অতুলনীয় । জীবন ক্রিয়ার সঙ্গে জৈব যৌগ গভীর ভাবে জড়িত । জীবদেহের জীবনক্রিয়া অব্যাহত রাখার জন্য জৈব যৌগের ভূমিকা অপরিসীম । জীবজগতে প্রত্যেক জৈবিক ক্রিয়ার কারণ হল জীবদেহে জৈব যৌগের ক্রিয়া । (i) দেহের পুষ্টি সাধন, বৃদ্ধি ও গঠন (ii) জীবদেহের রাসায়নিক পরিবর্তনে (iii) প্রাণীর গমন ও পেশী সঞ্চালনে (iv) প্রাণীর জীবনধারা ও বংশবৃদ্ধিতে (v) রোগ নিরাময়ে (vi) মানুষের স্বাচ্ছন্দ্য বিধানে ব্যবহৃত নানান সামগ্রী প্রস্তুতে জৈব যৌগ ভূমিকা অপরিসীম ।

জৈব যৌগ ও জৈব রসায়ন

বিজ্ঞানী ল্যাভয়সিয়েঁ অনেকগুলি জৈব যৌগের বিশ্লেষণ করে দেখান যে, সব জৈব যৌগের মধ্যে কার্বন আছে । 1815 খ্রিস্টাব্দে বার্জেলিয়াস প্রাণ শক্তি তত্ত্বের [vital force theory] দ্বারা জৈব এবং অজৈব যৌগগুলি পার্থক্য করেন এবং তিনি বলেন জৈব যৌগগুলির উত্পন্নের জন্য উদ্ভিদ কিংবা প্রাণীদেহে উপস্থিত প্রাণশক্তির প্রয়োজন । তাঁর মতে, এই শক্তি মানুষের করায়ত্ত নয়, তাই পরীক্ষাগারে অজৈব যৌগ থেকে জৈব যৌগগুলি প্রস্তুত করা সম্ভব নয় । তারপর এই প্রচলিত ধারণা ভেঙ্গে দিয়ে 1828 খ্রিস্টাব্দে জার্মান বিজ্ঞানী ফ্রেডরিক ভোলার [Fredrich Whohler] সর্বপ্রথম অজৈব যৌগ অ্যামোনিয়াম সায়ানেট [NH4CNO] -কে উত্তপ্ত করে জৈব যৌগ ইউরিয়া [CO(NH2)2] প্রস্তুত করে দেখান যে, পরীক্ষাগারে জৈব যৌগ তৈরি করা যায় । এই আবিষ্কারটি জৈব রসায়নে নবযুগের সূচনা করে ।