বিদেশী ভাষা থেকে উন্নত চিন্তা-ভাবনা গ্রহন করে মাতৃভাষাকে সম্বৃদ্ধ করা যেতে পারে, কিন্তু তা হৃদয়াবেগকে মন্থিত ও সুললিত করতে পারে না কখনোবিদেশী ভাষা জড়তাগ্রস্থ স্থবির অচলায়তনকে বিধ্বস্ত করার এক জঙ্গমশক্তিশিক্ষা-দীক্ষা, জ্ঞান-বিজ্ঞান, রাজনীতি সমাজনীতিকে সাবলীল ধারায় মোহনাগামী করতে বিদেশী ভাষার কোনো ভূমিকা থাকে নামাতৃভাষারই সেখানে সামগ্রিক দ্যোতনাবলা চলে---

"....আহ্বান করতে হবে মাতৃভাষাকে দেশব্যাপী দুঃখ-যন্ত্রণা ও দারিদ্রের সিংহাসনে আজ আমাদের অবহেলিত মাতৃভাষাকে সসম্মানে অভিষিক্ত করতে হবেকারণ সাতসমুদ্র তেরো নদীর পারের ভাষা দিয়ে আর যাই হোক, কোনোদিন কোন জাতির মাতৃপূজার বোধনমন্ত্র কখনই রচিত হতে পারে না।"

পূর্ণতার সম্যক ধ্বনিই হলো মাতৃভাষা যেখানে মনের জোরাল ও রসালো সমাবর্তন থাকেথাকে বর্নমালার সমূহ সারসত্তাকবি তাই তো লেখন -----

"......................

তোমাকে উপড়ে নিলে, বলো তবে কি থাকে আমার?

উনিশ শো' বাহান্নর দারুন রক্তিম পুষ্পাঞ্জলি

বুকে নিয়ে আছো সগৌরবে মহীয়সী

সে ফুলের একটি পাপড়িও ছিন্ন হলে আমার সত্তার দিকে

কত নোংরা হাতে হিংস্রতা ধেয়ে আসে

এখন তোমাকে নিয়ে নোংরার নোংরামি,

এখন তোমাকে ঘিরে খিস্তি-খেউড়ের পৌষমাস!

তোমার মুখের দিকে আজ আর যায় না তাকানো,

বর্নমালা, আমার দুঃখিনী বর্নমালা।"

অনুভূতির সার্থক শিল্পসুষমামন্ডিত রূপ পরিলক্ষিত হয় মাতৃভাষাতেই, যেখানে সব আবেগ, সৌন্দর্য গভীর ভালোবাসা হয়ে উসারিত হয়, কেন-না মাতৃমন্ডলই হলো সুষম শস্যাধার, আন্দোলনের প্রোথিত ধারাএখহানেই আমাদের প্রিয় মমত্ববোধ মগ্ন-মন্থনে হেঁটে যায় সযত্নে বহুদূরআবর্তনে আমাদের প্রতিদিনেই জীবনদর্শন বর্ণার আদলে ঘরগঘস্থলীর ছন্দে একীভূত।" কবি লেখেন -----

" বাংলা ভাষা উচ্চারিত হলে নিকোনো উঠোনে ঝরে

রৌদ, বারান্দায় লাগে জ্যোস্নার চন্দনবাংলাভাষা

উচ্চারিত হলে অন্ধ বাউলের একতারা বাজে

উদার গৈরিক মাঠে, খোলা পথে, উত্তাল নদীর

বাঁকে, বাঁকে ,নদীও নর্তকী হয়

...........................................

ঘুম পড়ানিয়া ছড়া কোন সে সুদূরে .......

..... আর একুশের প্রথম ফেরি অলৌকিক ভোর।"