প্রশ্ন: (৭) রাওলাট আইনকে কালাকানুন বলা হয় কেন ?
উত্তর: রাওলাট আইনে সরকার বিরোধী যে-কোনো প্রচারকার্যকে দন্ডনীয় অপরাধ বলে চিহ্নিত করা হয় এবং এই আইনে কোনো রকম সাক্ষপ্রমাণ ছড়াই যে-কোনো সন্দেহভাজন ব্যাক্তিকে বিনা পরোয়ানায় ও বিনাবিচারে গ্রেফতার, আটক ও ঘরবাড়ি তল্লাসির অধিকার সরকারকে দেওয়া হয়। এক কথায় বলা যায়- এই আইনের মাধ্যমে ভারতীয়দের ন্যায়বিচার লাভের অধিকার সম্পূর্ণভাবে কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। তাই রাওলাট আইনকে কালাকানুন বলা হয় ।
প্রশ্ন: (৮) কোন সময়কে গান্ধী যুগ বলা হয় ? অসহযোগ আন্দোলনের মুল লক্ষ্য কী ছিল ?
উত্তর:- ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়কালকে গান্ধী যুগ বলা হয়।
অসহযোগ আন্দোলনের মূল লক্ষ্য:-
১) পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যা কান্ডের প্রতিকার ।
২) খিলাফৎ সমস্যার সুষ্ঠ সমাধান ।
৩) স্বরাজ অর্জন । সেই সময়ে স্বরাজ অর্জনের অর্থ পরিষ্কার না থাকায় তৃতীয় লক্ষ্যটি পরে যুক্ত হয়ে ছিল । তবে এই প্রসঙ্গে গান্ধিজি বলে ছিলেন যে, যদি তাঁর নির্দেশিত অহিংস অসহযোগ অনুসরণ করা হয় তাহলে এক বছরের মধ্যে স্বরাজ অর্জন করা সম্ভব হবে ।
প্রশ্ন:- (১০) ১৯২০ খ্রিস্টাব্দের অসহযোগ আন্দোলনের মুল লক্ষ্য কী ছিল ?
উত্তর:- ১৯২০ খ্রিস্টাব্দের আগষ্ট মাসে কলকাতায় অনুষ্ঠিত কংগ্রেসের বিশেষ অধিবেশনে অসহযোগ আন্দোলনের প্রস্তাব গৃহীত হয় । গান্ধিজিকে এই আন্দোলন পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয় । নিম্নলিখিত উদ্দেশ্য গুলি পরিপূরণের জন্য গান্ধিজি অসহযোগ আন্দোলন শুরু করেন:-
১) ব্রিটিশ সরকারের দমনমূলক আইনগুলি, বিশেষভাবে কুখ্যাত রাওলাট আইনের বিরোধিতা করা ।
২) খিলাফৎ সমস্যার যথাযত সমাধানের দাবি জানানো ।
৩) এক বছরের মধ্যে স্বরাজ অর্জন করা এবং
৪) জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যা কান্ডের প্রতিবাদ জানানো ।
সংক্ষেপে বলা যায় যে, সম্পূর্ণ অহিংস পদ্ধতিতে সরকারের সঙ্গে অসহযোগিতা করে ভারতের ব্রিটিশ শাসনকে ব্যর্থ করে দেওয়াই ছিল গান্ধিজির ১৯২০ খ্রিস্টাব্দের অসহযোগ আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ।
***
- 435 views