Submitted by avimanyu pramanik on Sun, 01/17/2021 - 11:26

বাংলায় কারিগরি শিক্ষার বিকাশ:-

ব্রিটিশ শাসন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পূর্বে বাংলায় পাশ্চাত্য ধাঁচের কারিগিরি শিক্ষার অস্তিত্ব ছিল না । ঊনিশ শতক থেকে বাংলায় আধুনিক পাশ্চাত্য শিক্ষার ও বিজ্ঞান শিক্ষার অগ্রগতি ঘটে ও সেই সঙ্গে বাংলায় কারিগরি শিক্ষার দ্রুত প্রসার ও অগ্রগতি শুরু হয় । ১৮২০ খ্রিস্টাব্দে বাঙালি কারিগর গোলকচন্দ্র ইংল্যান্ড থেকে আগত বাষ্পীয় ইঞ্জিনের আদলে প্রথম কারিগরি যন্ত্র তৈরি করেন । ব্রিটিশরা তাদের নিজেদের সামরিক প্রয়োজনে ইলেকট্রিক টেলিগ্রাফ ব্যবস্থা চালু করেন । এই ইলেকট্রিক টেলিগ্রাফের লাইন পাতার কাজে ১৮৫০ খ্রিস্টাব্দে বাঙালি কারিগর শিবচন্দ্র নন্দী উল্লেখ্যযোগ্য কৃতিত্বের পরিচয় দেন । মহেন্দ্রনাথ নন্দী কাপড় বোনার যন্ত্র তৈরি করেন । বাঙালি কারিগররা অচিরেই আধুনিক কারিগরি প্রযুক্তিবিদ্যা শেখার দিকে মনযোগ দেন । রাজকৃষ্ণ কর্মকার জলচক্র, বন্দুক, মেশিনগান তৈরিতে নিপুনতার পরিচয় দেন । প্রসন্নকুমার ঘোষ কলকাতায় প্রথম সাইকেল ও রিক্সা নির্মাণ করেন । ইলেকট্রিক কারিগর কালিদাস শীল নানা ধরনের নতুন নতুন বৈদ্যুতিক সাজ-সরঞ্জাম তৈরিতে বিশেষ পারদর্শিতার পরিচয় দেন । বিপিনবিহারী দাস সর্বপ্রথম ভারতে একটি সম্পূর্ণ মোটরগাড়ি তৈরি করেন ।

উনিশ শতকের শেষদিক থেকে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস ও দেশীয় সংবাদপত্রগুলি ভারতে কারিগরি শিক্ষাবিস্তারের দাবিতে সরব হয় । এর পরিণতি হিসাবে কলকাতায় কারিগরি শিক্ষার বিস্তারের উদ্দেশ্যে ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দে 'অ্যাসোসিয়েশন ফর দি অ্যাডভান্সমেন্ট অব সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল এডুকেশন' গড়ে তোলা হয় । স্কলারশিপ দিয়ে এদেশের যোগ্য ছাত্রদের কারিগরি শিক্ষালাভের জন্য এই অ্যাসোসিয়েশন ইউরোপ, আমেরিকা ও জাপানে পাঠায় । কারিগরি শিক্ষার প্রসার ঘটানোর উদ্দেশ্যে ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে যাদবপুর টেকনিক্যাল কলেজ স্থাপিত হয় । ব্রিটিশ সরকার শিল্প বিষয়ক টেকনিক্যাল স্কুল স্থাপনে উৎসাহ দেখালে ১৯১২ খ্রিস্টাব্দে কলকাতায় একটি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনের প্রস্তাব বিবেচনার জন্য একটি কমিটি গঠন করে । সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সতীশ চন্দ্র মুখার্জীর প্রতিষ্ঠিত ডন সোসাইটিতেও বেসরকারিভাবে শিল্প ও কারিগরি শিক্ষা প্রসারের উদ্যোগ নেওয়া হয় । ডন সোসাইটিতে কারিগরি শিক্ষার প্রাথমিক ও উন্নতমানের পাঠক্রম চালু ছিল । এখানে শিক্ষানবীশদের যান্ত্রিক কৌশলের বিষয়ে শিক্ষাদান করা হত । ডন সোসাইটি ছাড়া জাতীয় শিক্ষা পরিষদ ও বেঙ্গল টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট -এর প্রচেষ্টায় বাংলায় কারিগরি শিক্ষার বিকাশ ঘটে ।

******

Related Items

বিশ শতকের ভারতে উপনিবেশ-বিরোধী আন্দোলনে বামপন্থী রাজনীতির অংশগ্রহণ

বিশ শতকের ভারতে উপনিবেশ-বিরোধী আন্দোলনে বামপন্থী রাজনীতির অংশগ্রহণ :-

রুশ বিপ্লবের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে মানবেন্দ্রনাথ রায়, অবনী মুখার্জি, মহম্মদ আলি সহ ২৪ জন প্রবাসী ভারতীয় বিপ্লবীদের নিয়ে রাশিয়ার তাসখন্দে ১৯২০ খ্রিস্টাব্দের ১৭ই অক্টোবর

ভারত ছাড়ো আন্দোলন পর্বে শ্রমিক আন্দোলন

ভারত ছাড়ো আন্দোলন পর্বে শ্রমিক আন্দোলন :-

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দের ৯ই আগস্ট মহাত্মা গান্ধির নেতৃত্বে ভারতের জাতীয় কংগ্রেস ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে ভারত ছাড়ো আন্দোলনের ডাক দেয় । এই আন্দোলন ধীরে ধীরে দেশ জুড়ে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ

আইন অমান্য আন্দোলন পর্বে শ্রমিক আন্দোলন

আইন অমান্য আন্দোলন পর্বে শ্রমিক আন্দোলন:-

১৯৩০ খ্রিস্টাব্দে আইন অমান্য আন্দোলন শুরু হলে ভারতের বিভিন্ন প্রদেশের শ্রমিকরা এই আন্দোলনে অংশ গ্রহণ করে । এই সময় বাংলায় শ্রমিক আন্দোলন যথেষ্ট শক্তিশালী হয়ে ওঠে । শ্রমিক আন্দোলনের ক্রমবর্ধমান ব্যাপ্তিত

ওয়ার্কার্স অ্যান্ড পেজেন্টস পার্টি

ওয়ার্কার্স অ্যান্ড পেজেন্টস পার্টি (Workers and Peasants Party) :-

কুতুবুদ্দিন আহমদ, কাজী নজরুল ইসলাম, অধ্যাপক হেমন্ত সরকার, সামসুদ্দিন হোসেন প্রমুখ ব্যক্তির উদ্যোগে ১৯২৫ খ্রিস্টাব্দের ১লা নভেম্বর বাংলায় 'লেবার স্বরাজ পার্টি অব দা ইন্ডিয়ান

অহিংস অসহযোগ আন্দোলন পর্বে শ্রমিক আন্দোলন

অহিংস অসহযোগ আন্দোলন পর্বে শ্রমিক আন্দোলন:-

অহিংস অসহযোগ আন্দোলনের সময় সারা ভারতে শ্রমিকরা আন্দোলনে শামিল হয় । এই সময় বাংলায় শ্রমিক আন্দোলন অত্যন্ত শক্তিশালী ওঠে । শ্রমিকদের কাজের সময় কমানো, বেতন বৃদ্ধি করা, ভারতীয়দের হাতে স্বায়ত্তশাসন দান প্