Book-page

বৈদ্যুতিক মোটর [Electric motor]

► বৈদ্যুতিক মোটর [Electric motor]:- বিদ্যুৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রুপান্তরিত করার যন্ত্রের মধ্যে একটি হল মোটর । বৈদ্যুতিক মোটর দু’রকম— [i] পরবর্তী প্রবাহের জন্য মোটর [A.C. Motor] এবং [ii] সমপ্রবাহের জন্য মোটর [D.C. Motor] । এখানে সমপ্রবাহের মোটর বা D.C. Motor বিষয়ে আলোচনা করা হল ।

তড়িৎপ্রবাহের ওপর চুম্বকের ক্রিয়া

► তড়িৎপ্রবাহের ওপর চুম্বকের ক্রিয়া [Action of magnet on current]:-

তড়িৎপ্রবাহ যেমন চুম্বকের ওপর ক্রিয়া করে চুম্বক-মেরুকে বিক্ষিপ্ত করার সময় ওর ওপর একটি বল প্রয়োগ করে, সেই রকম চুম্বক- মেরুও তড়িৎপ্রবাহের ওপর ক্রিয়া করে । এর ফলে চুম্বক-মেরু তড়িদ্বাহী পরিবাহীর ওপর একটি বল প্রয়োগ করে, ফলে পরিবাহী নিজ অবস্থান থেকে বিক্ষিপ্ত হয় ।

► চুম্বকের ক্রিয়ায় তড়িদ্বাহী পরিবাহীর গতির অভিমুখ নির্ণয় :-

চুম্বকের ওপর তড়িৎপ্রবাহের ক্রিয়া

► চুম্বকের ওপর তড়িৎপ্রবাহের ক্রিয়া [Action of electric current on magnet]:-

কোনো পরিবাহী তারের মধ্য দিয়ে তড়িৎপ্রবাহ পাঠালে তার চারপাশে একটি চৌম্বক ক্ষেত্রের সৃষ্টি হয় । ওই তারের কাছে একটি চুম্বক শলাকা থাকলে শলাকাটি বিক্ষিপ্ত হয় । একে চুম্বকের ওপর তড়িৎপ্রবাহের ক্রিয়া বলে । 1820 খ্রিস্টাব্দে বিজ্ঞানী ওরস্টেড সর্বপ্রথম চুম্বকের ওপর তড়িৎপ্রবাহের এই ফল লক্ষ করেন ।

তড়িৎ-ক্ষমতা এবং শক্তি

►তড়িৎ-ক্ষমতা এবং শক্তি [Electrical power and energy]:-

কার্য করবার হারকে ক্ষমতা বলে । তড়িৎ-ক্ষমতা বলতে তড়িৎপ্রবাহের কার্য করবার হার-কে বোঝায় । বৈদ্যুতিক যন্ত্রের ক্ষমতা ওয়াট [watt] নামক এককে প্রকাশ করা হয় । যে বৈদ্যুতিক যন্ত্র এক সেকেন্ডে [second] এক জুল [joule] কার্য করতে পারে, তার ক্ষমতাকে 1 ওয়াট [watt] বলা হয় । অর্থাৎ 1 ওয়াট [watt] = 1 জুল [joule] / সেকেন্ড ।

তড়িত্প্রবাহের তাপীয় ফল ও তার প্রয়োগ

►তড়িত্প্রবাহের তাপীয় ফল [Heating effect of current]:-

1841 খ্রিস্টাব্দে বিজ্ঞানী জেমস প্রেসকট জুল সর্বপ্রথম পরিবাহীতে তড়িত্প্রবাহের ফলে তাপের সৃষ্টি সম্পর্কে তিনটি সূত্র প্রকাশ করেন, এই সূত্রগুলিকে জুলের সূত্র বলা হয় ।

• জুলের সূত্র [Joule’s law]:- R রোধযুক্ত পরিবাহীতে যদি t সময় ধরে i প্রবাহমাত্রা চালু থাকে. তবে জুলের সূত্রকে নিম্নলিখিত রূপে প্রকাশ করা যেতে পারে —

রোধের সমবায় এবং তুল্যাঙ্ক রোধ

► রোধের সমবায় এবং তুল্যাঙ্ক রোধ [Combination of Resistances and Equivalent resistance]:-

• তুল্যাঙ্ক রোধ [Equivalent Resistance]:- ব্যবহারিক ক্ষেত্রে একাধিক রোধকে একত্রে যুক্ত করে মোট রোধের মান বাড়ানো বা কমানোর প্রয়োজন হয় । একে রোধের সমবায় বলা হয় । কোনো তড়িৎ-বর্তনীর দুই প্রান্তে একাধিক রোধ যুক্ত থাকলে বর্তনীতে যে প্রবাহ হয়, রোধগুলির পরিবর্তে ওই দুই প্রান্তের সঙ্গে একটি মাত্র রোধ যোগ করলে যদি প্রবাহমাত্র একই থাকে, তবে ওই একটিমাত্র রোধকে সমবায়ের রোধগুলির তুল্যাঙ্ক রোধ বলে ।

স্থির উষ্ণতায় কোনো তারের রোধের উপর বিভিন্ন বিষয়ের প্রভাব —রোধাঙ্ক

► স্থির উষ্ণতায় কোনো তারের রোধের উপর বিভিন্ন বিষয়ের প্রভাব —রোধাঙ্ক [Factor affecting resistance of a wire at a constant temperature —resistivity]:-

যে কোনো স্থির উষ্ণতায় কোনো তারের রোধ (R) তারটির— [i] দৈর্ঘ্য (l), [ii] প্রস্থচ্ছেদ (A) এবং [iii] উপাদানের ওপর নির্ভর করে ।

[i] দৈর্ঘ্যের ওপর নির্ভরশীলতা:- প্রস্থচ্ছেদ সুষম হলে একই উপাদান ও একই প্রস্থচ্ছেদবিশিষ্ট তারের রোধ তারের দৈর্ঘ্যের সমানুপাতিক হয় ।

ওহমের সূত্র [Ohm’s Law]

►ওহমের সূত্র [Ohm’s Law]:-

1826 খ্রিস্টাব্দে জার্মান বিজ্ঞানী জর্জ সাইমন ওহম প্রবাহমাত্রা ও বিভব-প্রভেদের মধ্যে সম্পর্ক একটি সূত্রের আকারে প্রকাশ করেন । সূত্রটি ওহমের সুত্র নামে পরিচিত । সূত্রটি হল— উষ্ণতা ও অন্যান্য ভৌত অবস্থা অপরিবর্তিত থাকলে, কোনো পরিবাহীর মধ্য দিয়ে তড়িৎপ্রবাহমাত্রা ওই পরিবাহীর দুই প্রান্তের বিভব-প্রভেদের সমানুপাতিক হয় । ভৌত অবস্থা বলতে পরিবাহীর উপাদান, ঘনত্ব, দৈর্ঘ্য, প্রস্থচ্ছেদ ইত্যাদি বোঝায় ।