পুষ্টি, বিপাক, পরিপাক
[ Nutrition: Metabolism and Digestion, Food, Vitamins, Enzymes, minerals and water ]
[Syllabus: Nutrition- Definition, its significance and importance. Food—as source of energy. Types - Carbohydrates, Fats, and proteins - their sources and importance in nutrition, Micro and Macro elements in plants& animals &its importance (classification not required). Vitamins - its importance. A, B - Complex, C,D, E, K-sources of these vitamins and their deficiency symptoms in man (Chemical nature not required). Water-Importance in nutrition. Plant nutrition-Autotrophs & heterotrophs (Definition & example), Essential micro & macro-elements in nutrition & their sources. Animal nutrition- Phases of nutrition (Ingestion, Digestion*, Absorption, Assimilation and Egestion along with the names of the structures concerned with reference to man). Enzymes-Definition, Characteristic features, Digestive enzymes with example and their role in digestion. Diet - Definition. Metabolism - Anabolism and catabolism (definition only). B.M.R - definition only. Total calorie requirements of human being; concept of Balance diet. ]
•পুষ্টি পরিপাক ও বিপাক
•পুষ্টি (Nutrition)
•উদ্ভিদ ও প্রাণীর পুষ্টির পর্যায়ক্রম
•উদ্ভিদ পুষ্টির পর্যায়
•প্রাণীর পুষ্টির পর্যায়
•পুষ্টির প্রয়োজনীয়তা
খাদ্যের সংজ্ঞা যে সমস্ত আহার্য সামগ্রী গ্রহণের মাধ্যমে জীবদেহের পুষ্টি, বৃদ্ধি ও ক্ষয়পূরণ ঘটে এবং প্রয়োজনীয় তাপশক্তি যোগান পাওয়া যায়, তাদের খাদ্য বলে(যেমনঃ শর্করা, প্রোটিনা ও ফ্যাট ) ।
জীবদেহে খাদ্যের কার্যকারিতার ভিত্তিতে খাদ্যকে দু ভাগেভাগ করা যায়।
১৷ দেহ পরিপোষক খাদ্য
যে সব খাদ্য গ্রহণে জীবদেহে শক্তি উৎপন্ন হয় এবং সেই শক্তির সাহায্যে জীবদেহে শারীরবৃত্তীয় ক্রিয়া সম্পন্ন হয় তাদের দেহ পরিপোষক খাদ্য বলে।
যেমনঃ কার্বোহাইড্রেট, ফ্যাট ও প্রোটিন।
২৷ দেহ সংরক্ষক খাদ্য
যে সব খাদ্য দেহকে রোগ সংক্রমানের হাত থেকে রক্ষা করে তাদের দেহ সংরক্ষক খাদ্য বলে।
যেমনঃ ভিটামিন, খনিজলবন ও জল।
কার্বোহাইড্রেট(Carbohydrate)
সংজ্ঞা :- কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের সমন্বয়ে গঠিত যে জৈব যৌগে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন 2:1 অনুপাতে থাকে তাকে কার্বোহাইড্রেট বলে।
বৈশিষ্ট্য
১৷ এই খাদ্য কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের সমন্বয়ে গঠিত।
২৷ এই খাদ্যে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের অনুপাত 2:1 ।
৩৷ এদের একক হল শর্করা ![\left[ {{C_n}{{\left( {{H_2}O} \right)}_n}} \right] \left[ {{C_n}{{\left( {{H_2}O} \right)}_n}} \right]](../../../cgi-bin/mimetex_cgi-\left[ {{C_n}{{\left( {{H_2}O} \right)}_n}} \right].jpg)
৪৷ এই খাদ্য অ্যামাইলোলাইটিক উৎসেচক দ্বারা বিশ্লিষ্ট হয়।
কার্বোহাইড্রেটের শ্রেণীবিভাগ
শর্করা অনুর উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে কার্বোহাইড্রেটকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
শর্করা অনুর সংখ্যা
|
শর্করার শ্রেণীবিভাগ |
শর্করা অনুর সংখ্যা |
উদাহরণ |
|
১৷ মনোস্যাকারাইড |
১ টি |
গ্লুকোজ, ফ্রুকটোজ ও গ্যালাকটোজ |
|
২৷ ডাই স্যাকারাইড
|
২ টি |
ল্যাকটোজ, মলটোজ ও সুক্রোজ |
|
৩৷ পলিস্যাকারাইড
|
একাধিক |
শ্বেতসার, সেলুলোজ ও গ্লাইকোজেন (প্রাণীজ) |
উদ্ভিদজ্য উৎস
১৷ চাল, গম, ভুট্টা, আলু, ওল, কচু ইত্যাদি থেকে শ্বেতসার পাওয়া যায়।
২৷ খেঁজুর, আঙুর, আপেল ইত্যাদি থেকে গ্লুকোজ পাওয়া যায়।
৩৷ পাকা আম, কলা, কমলালেবু ইত্যাদি থেকে ফ্রুকটোজ পাওয়া যায়।
৪৷ মিছরি, চিনি,গুড় ইত্যাদি থেকে সুক্রোজ পাওয়া যায়।
৫৷ শাকসবজি, বেল, তরমুজ, থোড় ইত্যাদি থেকে সেলুলোজ।
প্রাণীজ উৎস
১৷ দুধে দুগ্ধ শর্করা বা ল্যাকটোজ পাওয়া যায়।
২৷ পাঁঠার যকৃৎ ও পেশীতে থাকে গ্লাইকোজেন।
শর্করা খাদ্যের গুরুত্ব
১৷ শক্তি উৎপাদনে
কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাদ্যের প্রধান কাজ হল শক্তি উৎপাদন করা।
1 গ্রাম কার্বোহাইড্রেটের সম্পূর্ণ দহনে 4.0 cal তাপশক্তি উৎপন্ন হয়।
২৷ কোষ্টবদ্ধতা দূরীকরণে
শাকসবজিতে সঞ্চিত সেলুলোজ জাতীয় খাদ্য কোষ্টবদ্ধতা দূর করে।
৩৷ রক্ত শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে
প্রাণীদেহের যকৃৎ ও পেশীতে সঞ্চিত গ্লাইকোজেন প্রয়োজনে গ্লুকোজে রূপান্তরিত হয়ে রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে।
৪৷ বিশেষ গুরুত্ব
শর্করা খাদ্য প্রোটিন ও ফ্যাট সংশ্লেষে অংশ গ্রহন করে। এই জাতীয় খাদ্য প্রোটিনের চাহিদা পূরণ করতে পারে। সেই কারণে শর্করা খাদ্য কে “ প্রোটিন বাঁচোয়া খাদ্য “ বলে।
তাপন মূল্য (Calorific value) কোনো নির্দিষ্ট পরিমাণ খাদ্যবস্তুর সম্পূর্ণ জারণ হলে যে পরিমাণ তাপশক্তি উৎপন্ন হয়, তাকে ঔ খাদ্যের তাপন মূল্য(Calorific value) বলে।
প্রোটিন (Protein)
সংজ্ঞাঃ কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন এবং নাইট্রোজেনের স্বনিত যে জৈব যৌগ অ্যামাইনো অ্যাসিড উৎপন্নও করে তাকে প্রোটিন বলে।
বৈশিষ্ট্য
১৷ প্রোটিন কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন এবং নাইট্রোজেনের সমন্বয়ে গঠিত।
২৷ প্রোটিনের একক হল অ্যামাইনো অ্যাসিড।
৩৷ প্রোটিওলাইটিক উৎসেচক দ্বারা বিশ্লিষ্টও হয়।
শ্রেণীবিভাগ প্রোটিন কে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
|
সরল প্রোটিন |
সংযুক্ত প্রোটিন |
লুব্ধ প্রোটিন |
|
যে প্রোটিন কেবল অ্যামাইনো অ্যাসিডের সমন্বয়ে গঠিত তাকে সরল প্রোটিন বলে। যেমন অ্যাল্বুমিন(ডিম), জিলেটিস(মাংস) |
যে প্রোটিন অন্য কোনো অপ্রোটিন বস্তুর সঙ্গে যুক্ত হয়ে প্রোটিন গঠন করে তাকে সংযুক্ত প্রোটিন বলে। যেমন ল্যপোপ্রোটিন=লিপিড+প্রোটিন |
সরল প্রোটিন পাচিত হওয়ার সময়ে যে সমস্ত পদার্থ উৎপন্ন হয় তাকে লুব্ধ প্রোটিন বলে। যেমন পেপটোন, পেপটাইড |
উৎস
|
উদ্ভিজ্জ উৎস |
প্রাণীজ উৎস |
|
বিভিন্ন ধরনের ডাল, সয়াবিন, বীন, গম ইত্যাদি |
মাছ, মাংস, দুধ, ডিমের সাদা অংশ, ছানা ইত্যাদি |
প্রোটিনের গুরুত্ব
১৷ দেহের বৃদ্ধি, কোষ গঠন ও ক্ষয়পুরন হল প্রোটিনের প্রধান কাজ।
২৷ 1 gm অনু প্রোটিন দহনে 4.1 kcal তাপ শক্তি উৎপন্ন হয়। একজন প্রাপ্তবয়স্ক লোকের প্রত্যহ প্রায় 100-150gm প্রোটিন জাতীয় খাদ্যের প্রয়োজন।
৩৷ অপরিহার্য অ্যামাইনো অ্যাসিডের চাহিদা পূরণ করা প্রোটিনের কাজ।
৪৷ দেহস্থ উৎসেচক, হরমোন ইত্যাদি সৃষ্টি করা প্রোটিনের কাজ।
অপরিহার্য অ্যামাইনো অ্যাসিড
সংজ্ঞা যে সমস্ত অ্যামাইনো অ্যাসিড প্রাণীদের দেহে সংশ্লোষিত না হলেও দেহের জৈবিক কাজে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় এবং যারা খাদ্যের মাধ্যমে বাইরে থেকে সংগৃহীত হয়, তাদের অপরিহার্য অ্যামাইনো অ্যাসিড বলে।
এ গুলি হল লাইসিন, ভ্যালিন, লিউসিন, আইসোলিউসিন, মিথিওনিন, ফিনাইল অ্যালানিন, থ্রিওনিন ও ট্রিপটোফ্যান।
একটি সরল অ্যামাইনো অ্যাসিড হল লাইসিন সরল প্রোটিন হল অ্যালবুমিন
প্রোটিনের অভাবজনিত রোগ
|
নাম |
লক্ষন |
|
কোয়াশিয়রকর |
প্রোটিনের অভাবে শরীর ফুলে যায়, ত্বক শুকনো ও খসখসে হয়ে যায়। |
|
ম্যারাসমাস |
প্রোটিনের অভাবে শিশুদের হাত পা সরু হয়ে যায়। এই রোগে আক্রান্ত শিশুকে বৃদ্ধের মত দেখায়। |
ফ্যাট (Fat)
সংজ্ঞাঃ যে জৈব যৌগ কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের সমন্বয়ে গঠিত এবং যার মধ্যে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন 2:1 অনুপাতে থাকে না, তাদের ফ্যাট জাতীয় খাদ্য বলে।
বৈশিষ্ট্যঃ
১৷ ফ্যাট কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের সমন্বয়ে গথিত।
২৷ ফ্যাটের মধ্যে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের অনুপাত 2:1।
৩৷ এর একক হল ফ্যাটি অ্যাসিড ও গ্লিসারল।
৪৷ এরা জলে অদ্রাব্য কিন্তু অ্যালকোহলে দ্রাব।
উৎসঃ
|
উদ্ভিজ্জ উৎস |
প্রানিজ উৎস |
|
সরষে, সূর্যমুখী, বীজ, নারকেল, বাদাম, তিল ইতাদি। |
ঘি, মাখন, চর্বি ইত্যাদি |
গুরুত্বঃ
১৷ তাপশক্তি উৎপন্ন করা ফ্যাট জাতীয় খাদ্যের প্রধান কাজ।
২৷ ফ্যাট প্রাণীদেহে মেদ রূপে ভবিষ্যৎ এর জন্য খাদ্যের উৎস হিসাবে সঞ্চিত থাকে।
৩৷ ফ্যাট A, D, E, K ভিটামিনকে দ্রবীভূত রাখে এবং এদের শোষণে সহায়তা করে।
৪৷ ফ্যাট মলাশয় ও পায়ু পিচ্ছিল করে মল নিঃসারণে সহায়তা করে।
তাপন মুল্যঃ 1 gm ফ্যাট অর্থাৎ স্নেহ পদার্থ দহন হলে 9.3 Kcal তাপশক্তি উৎপন্ন হয়। খাদ্য হিসাবে একজন প্রাপ্তবয়স্ক লোকের প্রতিদিন প্রায় 50 gm স্নেহ পদার্থের প্রয়োজন।
অপরিহার্য ফ্যাটি অ্যাসিডঃ
সংজ্ঞাঃ যে সব ফ্যাটি অ্যাসিড দেহে সংশ্লিষ্ট হয় না কিন্তু জীবদেহে সাধারণ পুষ্টি ও বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজন তাকে অপরিহার্য ফ্যাটি অ্যাসিড বলে।
যেমনঃ লিনোলেনিক অ্যাসিড, লিনোলেয়িক অ্যাসিড।
খাদ্যের পরিপাক পদ্ধতিঃ
আমরা প্রত্যহ ভাত, চিঁড়ে, মুড়ি, রুটি ইত্যাদি কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাদ্য গ্রহন করি। এই কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাদ্য পৌষ্টিক নালীর বিভিন্ন অঙ্গে বিভিন্ন উৎসেচকের দ্বারা কি ভাবে পাচিত হয় তা ছকের সাহায্যে দেখানো হল।
মুখবিবরঃ খাদ্য প্রথমে মুখবিবরে লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত টায়ালিনের মাধ্যমে শ্বেতসার মলটোজে ও মলটেজের মাধ্যমে মলটোজ গ্লুকোজে পরিনত হয়। এর পর খাদ্য গ্রাসনালীতে আসে।
গ্রাসনালীর পরিপাকঃ গ্রাসনালীতে খাদ্যের কোনো পরিপাক হয় না। এর পর খাদ্য পাকস্থলীতে প্রবেশ করে।
পাকস্থলীর পরিপাকঃ পাকস্থলীতে অক্সিনটিক গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত HCl খাদ্যকে আম্লিক করে। এর পর খাদ্য ডিওডেনামে আসে।
ডিওডেনামের পরিপাকঃ খাদ্য বস্তু ডিওডেনামে প্রবেশ করে অগ্ন্যাশয় থেকে নিঃসৃত অ্যামাইলেজ শ্বেতসারকে মলটোজে ও মলটোজকে মলটেজ ও গ্লুকোজে পরিনত করে। এর পর খাদ্য ইলিয়ামে আসে।
ইলিয়ামে পরিপাকঃ খাদ্য ইলিয়ামে প্রবেশ করে আন্ত্রিক গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত সুক্রেজ এর মাধ্যমে সুক্রোজ গ্লুকোজ+ফুকটোজ=ল্যাকটোজে পরিনত হয়। আন্ত্রিক গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত ল্যাকটেজের মাধ্যমে ল্যাকটোজ গ্লুকোজ ও গ্যালাকটোজে পরিনত হয়।
বৃহদন্তের পরিপাকঃ শেষে অপাচ্য খাদ্য কণা বৃহদন্তে জমা হতে থাকে।
গ্লুকোজ ইলিয়ামের অন্তগ্রাত্রে অবস্থিত ভিলাই কর্তিক শোষিত হয়।
অবশেষে অপাচ্য খাদ্যাংশ বৃহদন্তে সাময়িকভাবে জমা থাকে।
টিকাঃ
অ্যান্টিভিটামিনঃ যে সব পদার্থ ভিটামিনের অনুরূপে রাসায়নিক শ্রেণীভুক্ত হয়েও ভিটামিনের কার্যকারিতা হ্রাস করে বা ভিটামিনের ক্রিয়া বিনষ্ট করে, তাদের অ্যান্টিভিটামিন বলে।
যেমন থিয়ামিন
এর অ্যান্টিভিটামিন হল পাইরিথিয়ামিন।
বায়োটিনের অ্যান্টিভিটামিন হল অ্যাভিডিন।
প্রোভিটামিনঃ যে সব পদার্থ থেকে ভিটামিন সংশ্লেষিত হয় তাদেরকে প্রোভিটামিন বলে।
যেমন আর্গোস্টেরল হল ভিটামিন D এর প্রোভিটামিন।
ক্যারোটিন হল ভিটামিন A এর প্রোভিটামিন।
সিউডোভিটামিনঃ যে সব জৈব যৌগের গঠন ভিটামিনের মত কিন্তু ভিটামিনের গুন সম্মত নয়, তাদের সিউডোভিটামিন বলে।
যেমন মিথাইলকোবালামিডন ভিটামিন এর সিউডোভিটামিন ।
ভিটামিন সংশ্লেষঃ
একমাত্র উদ্ভিদরাই নিজেদের দেহে ভিটামিনের সংশ্লেষ করতে পারে। উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন গ্লুকোজ থেকে ভিটামিন সংশ্লেষ করে। প্রাণীদেহে সরাসরি ভিটামিন সংশ্লেষ হয় না। ত্বকে ভিটামিন D সূর্যালোকের অতি বেগুনী রশ্নির প্রভাবে আর্গেস্টরল থেকে সংশ্লেষিত হয়। ভিটামিন A যকৃতে ক্যারোটিন থেকে সংশ্লেষিত হয়। ভিটামিন ইত্যাদি অন্ত্রে জীবাণু কর্তৃক সংশ্লেষিত হয়। ভিটামিন C ইঁদুরের অ্যাভরিনাল কটেক্স সংশ্লেষিত হয়।
ভিটামিন (Vitamins)
সংজ্ঞাঃ যে বিশেষ জৈব পরিপোষক সাধারণ খাদ্য অতি অল্প পরিমানে থেকে দেহের স্বাভাবিক পুষ্টি ও বৃদ্ধিতে সহায়তা করে এবং রোগ প্রতিরোধে শক্তি বৃদ্ধি করে, তাকে ভিটামিন বলে।
ভিটামিনের বৈশিষ্টঃ
১৷ রাসায়নিক প্রকৃতিঃ ভিটামিন এক প্রকার জৈব অনুঘটক।
২৷ ক্রিয়া প্রকৃতিঃ ভিটামিন অল্প গাঢ়ত্যের কাজ করে এবং দৈনিক অল্প মাত্রায় প্রয়োজন হয়।
৩৷ উৎসঃ ভিটামিনের প্রধান উৎস হল উদ্ভিদ। তবে ভিটামিন
প্রাণীদেহে সংশ্লেষিত হয়।
৪৷ অন্যান্য বৈশিষ্ট্যঃ ভিটামিন পচনে বিনষ্ট হয় না,কিন্তু বিপাকের সময় বিনষ্ট হয়।
ভিটামিন উৎসেচকের সঙ্গে সহ উৎসেচক রূপে কাজ করে।
ভিটামিনের প্রয়োজনীয়তাঃ-
১৷ স্বাভাবিক বৃদ্ধিতেঃ জীব দেহের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য ভিটামিন অপরিহার্য।
২৷ রোগ প্রতিরোধেঃ ভিটামিনের প্রধান কাজ হল রোগ প্রতিরোধ করা।
৩৷ খাদ্য প্রাণ হিসাবেঃ জীবের জীবন ধারণের জন্য অত্যাবশ্যকীয় খাদ্য উপাদান হল ভিটামিন সেই কারণে একে খাদ্য প্রাণ বলে।
নিম্নলিখিত রোগ গুলি কোন ভিটামিনের অভাবে হয়।
রোগের নাম ভিটামিনের নাম
টোড-স্কিন বা ফ্রিনোডার্মা ভিটামিন A
রাতকানা বা জেরপথ্যালমিয়া ভিটামিন A
কেরাটোম্যালেসিয়া ভিটামিন A
রেনাল স্টোন ভিটামিন A
বেরিবেরি ভিটামিন 
পারনিসিয়াস অ্যানিমিয়া বা রক্তাল্পতা ভিটামিন
পেলেগ্রা ভিটামিন
স্টোমাটাইটিস ভিটামিন
গ্লসাইটিস ভিটামিন
স্কার্ভি ভিটামিন C
রিকেট ভিটামিন D
অস্টিওম্যালেসিয়া ভিটামিন D
হেমারেজ বা রক্তক্ষরণ ভিটামিন K
|
ভিটামিনের নাম |
উৎস |
কাজ |
অভাবজনিত ফল |
|
১৷ ভিটামিন A বা রেটিনল |
কড্ ,হাঙর প্রভৃতি সামুদ্রিক মাছের যকৃৎ নিঃসৃত তেল, গাজর, লেটুস দুধ, ডিম ইত্যাদি। |
রেটিনার গঠন ও চোখের কর্মক্ষমতা রক্ষা, দেহের স্বাভাবিক বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রন, ত্বকের কোমলতা স্বাভাবিক রাখে। |
ভিটামিন A –র অভাবে রাতকানা, ত্বক খসখসে হওয়া(টোডস্কিন) প্রভৃতি রোগ লক্ষণ প্রকাশ পায়। |
|
২৷ ভিটামিন- বি কমপ্লেক্স
রাইবোফ্ল্যাভিন নিয়াসিন সায়ানোকো-বালামিন |
ঢেঁকিছাটা চাল, লাল আটা, ডিম, দুধ, মাছ, মাংস, পালংশাক, টম্যাটো ইত্যাদি। |
দেহের স্বাভাবিক বৃদ্ধি, রক্ত কোশ গঠন, মিউকাস পর্দা সুস্থ রাখা, স্নায়ু কোশ সুস্থ রাখা ইত্যাদি। |
ভিটামিন বি-কমপ্লেক্সের অভাবে বেরিবেরি, রক্তিল্পতা, মুখে ঘা, পেলেগ্রা, স্নায়ু-দৌর্বল্য ইত্যাদি রোগ লক্ষণ প্রকাশ পায়।
|
|
৩৷ ভিটামিন-C বা অ্যাসকরবিক অ্যাসিড |
সব রকম টাটকা ও টক ফল-লেবু, আম, আমলকি, মাতৃ-স্তনদুগ্ধ ইত্যাদি। |
রড কোশ গঠন, রোগ প্রতিরোধ শক্তি বৃদ্ধি, দাঁতের মাড়ি সুস্থ রাখাইত্যাদি। |
ভিটামিন-C এর অভাবে স্কার্ভি রোগ লক্ষণ প্রকাশ পায়। |
|
৪৷ ভিটামিন-D বা ক্যালসিফেরল |
কড ও হ্যালিবাট, মাছের যকৃৎ নিঃসৃত তেল, ডিম, দুধ, উদ্ভিজ তেল ইত্যাদি। |
অস্থি গঠনে সহায়তা করা এবং ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস বিপাক নিয়ন্ত্রণ করা। |
ভিটামিন-D এর অভাবে শিশুদের রিকেট ও বড়োদের অস্টিওম্যালেসিয়া রোগ লক্ষণ প্রকাশ পায়। |
|
৫৷ ভিটামিন-E বা টোকোফেরল |
লেটুস শাক, মটরশুঁটি, গমের অঙ্কুর নিঃসৃত তেল,দুধ, ডিম ইত্যাদি। |
স্তনদুগ্ধ ক্ষরণ, বন্ধ্যাত্ব প্রতিরোধ, ভ্রূণের বৃদ্ধি ইত্যাদিতে সাহায্য করা। |
ভিতামিন-E এর অভাবে বন্ধ্যাত্ব, স্তনদুগ্ধ ক্ষরণ হ্রাস পাওয়া ইত্যাদি লক্ষণ প্রকাশ পায়। |
|
৬৷ ভিটামিন-K বা ফাইলোকুইনন |
টম্যাটো, বাঁধাকপি, পালংশাক, আলফা-আলফা শাক, দুধ, মাখন, শূকরের যকৃৎ নিঃসৃত তেল ইত্যাদি। |
রক্তে প্রোথ্রম্বিন এর পরিমাণ স্বাভাবিক রাখা এবং রক্ত-তঞ্চনে সহায়তা করা। |
ভিটামিন-K এর অভাবে রক্ত তঞ্চন ব্যাহত হয়, এর ফলে রক্ত ক্ষরণ বৃদ্ধি পায়। |
খনিজ লবন
প্রয়োজনীয়তাঃ
১৷ পুষ্টিঃ জীব দেহের স্বাভাবিক পুষ্টির জন্য খনিজ লবনের প্রয়োজনীয়তা আছে।
২৷ বৃদ্ধিঃ জীব দেহের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য খনিজ লবনের প্রয়োজন।
৩৷ রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতাঃ রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা অর্জনের জন্য খনিজ লবনের গ্রহনের প্রয়োজন আছ।
|
খনিজ পদার্থের নাম |
উৎস |
অভাবজনিত ফল |
|
লোহা (Fe) |
উদ্ভিদজ্জঃ কাঁচাকলা, মোচা, বিভিন্ন শাক সব্জি, থোর, ডুমুর ইত্যাদি। |
উদ্ভিদঃ সবুজ পাতা হলুদ হয়, অর্থাৎ ক্লোরোসিস হয়।
|
|
প্রাণীজঃ মাছ, মাংস, ডিম ইত্যাদি |
প্রাণীঃ অ্যানিমিয়া বা রক্তাল্পতা |
|
খনিজ পদার্থের নাম |
উৎস |
অভাবজনিত ফল |
|
ম্যাগনেসিয়াম(Mg)
|
উদ্ভিজ্জঃ সকল প্রকার সবুজ শাক সব্জি ও দানা শস্য প্রভৃতি।
|
উদ্ভিদঃ ক্লোরোসিস হয়। |
|
প্রাণীজঃ মাংস, সামদ্রিক মাছ প্রভৃতি। |
প্রাণীঃ স্নায়ু দুর্বল রোগ অনিয়মিত হৃৎস্পন্দ । |
|
খনিজ পদার্থের নাম |
উৎস |
অভাবজনিত ফল |
|
ক্যালসিয়াম(Ca) |
উদ্ভিজ্জঃ দানাশস্য, ডাল, ফুলকপি, গাজর, লেবু ইত্যাদি। |
উদ্ভিদঃ পত্র কুঞ্চন মূল ও কাণ্ডের বৃদ্ধি ব্যহত। |
|
প্রাণীজঃ দুধ, ডিম, ছোটো মাছ, মাংস, মাখন ইত্যাদি। |
প্রাণীঃ রিকেট, দন্তক্ষয় ইত্যাদি। |
|
খনিজ পদার্থের নাম |
উৎস |
অভাবজনিত ফল |
|
ফসফরাস(P) |
উদ্ভিজ্জঃ দানা শস্য, সবুজ শাক সব্জি, সয়াবিন ইত্যাদি। |
উদ্ভিদঃ স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যহত ও পত্র গাঢ় ও নীল বর্ণ ধারণ করে। |
|
প্রাণীজঃ দুধ, ডিম, মাছ, মাংস ইত্যাদি। |
প্রাণীঃ রিকেট, দন্তক্ষয় ইত্যাদি। |
|
খনিজ পদার্থের নাম |
উৎস |
অভাবজনিত ফল |
|
সোডিয়াম(Na) |
উদ্ভিজ্জঃ শাক সব্জি, ফলমূল [খাদ্য লবন]। |
উদ্ভিদঃ স্বাভাবিক বৃদ্ধি লোপ। |
|
প্রাণীজঃ মাছ, ডিম, দুধ ইত্যাদি। |
প্রাণীঃ ওজন হ্রাস, রক্তাল্পতা ইত্যাদি।
|
|
খনিজ পদার্থের নাম |
উৎস |
অভাবজনিত ফল |
|
পটাসিয়াম(K) |
উদ্ভিজ্জঃ শাক সব্জি, ফল মূল ইত্যাদি। |
উদ্ভিদঃ পত্র কুঞ্চন ও বিবর্ণ হয়।
|
|
প্রাণীজঃ মাছ, ডিম প্রভৃতি। |
প্রাণীঃ স্নায়ু দুর্বল ও অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন। |
|
খনিজ পদার্থের নাম |
উৎস |
অভাবজনিত ফল |
|
আয়োডিন(I)
|
উদ্ভিজ্জঃ শাক সব্জি, সারকম, পিঁয়াজ ইত্যাদি। |
উদ্ভিদঃ বৃদ্ধি ব্যহত হয়। |
|
প্রাণীজঃ সামুদ্রিক মাছ, সামুদ্রিক লবন, ডিম, দুধ ইত্যাদি। |
প্রাণীঃ গলগণ্ড |
জল(Water)
জীবন ধারনের জন্য জল একান্ত প্রয়োজন। জীবদেহের ওজনের 60%-90% জলের প্রয়োজন। স্থলজ উদ্ভিদ মূলরোম দ্বারা মাটি থেকে এবং জলজ উদ্ভিদ সমগ্র দেহ তল দিয়ে ব্যপন প্রক্রিয়ায় জল শোষণ করে। প্রাণীরা বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্য ও পানীয় মাধ্যমে জল গ্রহন করে। নিম্নে জীবদেহের জলের প্রয়োজনীয়তা দেওয়া হল।
উদ্ভিদ দেহে জলের প্রয়োজনীয়তাঃ
১৷ জল সজীব কোষে প্রোটপ্লাজমের উপাদান।
২৷ উদ্ভিদ দেহে বাষ্পমোচন, সালোকসংশ্লেষ, শ্বসন, রেচন প্রভৃতি ক্রিয়ায় জলের বিশেষ প্রয়োজন।
৩৷ জল ছাড়া উদ্ভিদ দেহে সংবহন ক্রিয়া সংগঠিত হয় না।
৪৷ জীবের অঙ্কুরোদ গমের জন্য জলের প্রয়োজনীয়তা আছে।
প্রাণীদেহে জলের প্রয়োজনীয়তাঃ
১৷ জল প্রাণী কোষের প্রোটপ্লাজমের প্রধান উপাদান।
২৷ জলের সাহায্যে প্রাণীদেহে খাদ্যের পরিপাক হয়।
৩৷ জল রক্ত ও লসিকার আবশ্যকীয় উপাদান।
৪৷ রেচন দ্রব্য বর্জনেও জলের বিশেষ ভূমিকা আছে।
জল খাদ্য নয় কেন?
জলের কোন তাপন মূল্য নেই বলে জলকে খাদ্য বলা হয় না।
উদ্ভিদ পুষ্টি
স্বভোজী পুষ্টিঃ
সংজ্ঞাঃ যে পদ্ধতিতে জীব নিজ দেহে উৎপন্ন খাদ্য দ্বারা পুষ্টি নির্বাহ করে তাকে স্বভোজী পুষ্টি বা অটোট্রফিক পুষ্টি বলে।
উদাহরনঃ শৈবাল, মস, ফার্ন, আম, জাম প্রভৃতি উদ্ভিদের মধ্যে এইরূপ পুষ্টি পদ্ধতি দেখা যায়।
পদ্ধতিঃ স্বভোজী পুষ্টি দুটি পর্যায় ঘটে।
১৷ সংশ্লেষ
২৷ আত্তীকরণ
১৷ সংশ্লেষঃ
এই পদ্ধতিতে সবুজ উদ্ভিদ ক্লোরোফিলের সহায়তায় সূর্যালোকের উপস্থিতিতে মূলরোম দ্বারা শোষিত জল ও পত্ররন্ধ্র দ্বারা গৃহিত কার্বন ডাই অক্সাইডের রাসায়নিক সমন্বয় সাধন করে, গ্লুকোজ সংশ্লেষ করে। পরে তা শ্বেতসার বা প্রোটিন বা ফ্যাট খাদ্যে পরিণত হয়ে উদ্ভিদের মূল, কাণ্ড, পাতা, ফল ও বীজের মধ্যে সঞ্চিত থাকে।
যে পদ্ধতিতে উদ্ভিদ না না অজৈব উপাদান থেকে নিজ দেহে উপযোগী জৈব যৌগের সৃষ্টি করে তাকে সংশ্লেষ বলে।
২৷ আত্তীকরণঃ
এই পর্যায় উদ্ভিদ সংশ্লেষিত খাদ্য বস্তুকে প্রোটপ্লাজমে অঙ্গীভূত করে। এর ফলে উদ্ভিদ দেহে শুষ্ক ওজন বাড়ে।
যে পদ্ধতিতে উদ্ভিদের নিজ দেহে সংশ্লেষিত খাদ্য বস্তু কোষীয় প্রোটপ্লাজমে অঙ্গীভূত হয় তাকে আত্তীকরণ বলে।
পরভোজী পুষ্টিঃ
সংজ্ঞাঃ যে পুষ্টি প্রক্রিয়ায় জীবেরা নিজেদের দেহে খাদ্য সংশ্লেষ না করে অপর কোনো আশ্রয়দাতার দেহ থেকে অথবা মৃত জৈব পদার্থ থেকে পুষ্টিরস শোষণ করে, পুষ্টি সম্পন্ন করে তাকে পরভোজী পুষ্টি বলে।
উদাহরনঃ বিভিন্ন রকম ছত্রাক স্বর্ণলতা, র্যাফ্লেসিয়া, বেনে-বৌ এবং পতঙ্গভুক উদ্ভিদদের পরভোজী পুষ্টি দেখা যায়। এই প্রসঙ্গে উল্লেখ্য যে প্রাণীদের পুষ্টি পরভোজী পুষ্টি।
বিভিন্ন প্রকার পরভোজী উদ্ভিদ
১৷ মৃতজীবী
২৷ পরজীবী
৩৷ মিথোজীবী বা অন্যান্যজীবী
৪৷ পতঙ্গভুক
১৷ মৃতজীবীঃ
যে সব উদ্ভিদ গলিত ও পচা উদ্ভিদ বা প্রাণীর দেহাবশেষ অথবা অন্যান্য জৈব পদার্থ,( যেমন- গোবর, ভিজে কাঠ, ভিজে চামড়া, জ্যাম, জেলি ইত্যাদি পচনশীল জৈব পদার্থ ) থেকে পুষ্টিরস শোষণ করে, তাদের মৃতজীবী বা স্যাপ্রোফাইট বলে।
উদাহরণঃ ব্যাঙের ছাতা বা অ্যাগারিকাস, ঈস্ট, পেনিসিলিয়াম, মিউকর ইত্যাদি ছত্রাক এবং মনোট্রোপা নামের সপুষ্পক উদ্ভিদ পূর্ণ মৃতজীবী উদ্ভিদ।
পাইন গাছ সবুজ তাই এদের স্বভোজী পুষ্টি দেখা যায়; কিন্তু এদের মূলে বসবাসকারী একরকম ছত্রাকের (মাইকো্রাইজা) সাহায্যে এরা পরোক্ষ ভাবে গলিত পদার্থ শোষণ করে, তাই পাইন গাছ আংশিক মৃতজীবী।
মৃতজীবী উদ্ভিদের পুষ্টিকে মৃতজীবী পুষ্টি বলে।
যে পুষ্টি পদ্ধতিতে পচা গলিত উদ্ভিদ বা প্রাণীর দেহাবশেষ থেকে পুষ্টিরস শোষণ করে পুষ্টি সম্পাদিত হয়, তাকে মৃতজীবীয় পুষ্টি বলে।
২৷ পরজীবীঃ
যে সব উদ্ভিদ অপর কোনো সজীব আশ্রয়দাতা উদ্ভিদ দেহ থেকে পুষ্টিরস শোষণ করে পুষ্টি সাধন করে তাদের পরজীবী বা প্যারাসাইট বলে।
যে সব উদ্ভিদ দেহ থেকে পরজীবী উদ্ভিদ পুষ্টিরস শোষণ করে তাদের পোষক বা আশ্রয়দাতা বলে।
পরজীবী উদ্ভিদ দু রকমের
১৷ পূর্ণ পরজীবী
২৷ আংশিক পরজীবী
পূর্ণ পরজীবীঃ পুষ্টির জন্য যে সব জীব সম্পূর্ণভাবে আশ্রয়দাতার ওপর নির্ভরশীল তাদের পূর্ণ পরজীবী বলে।
যেমন – স্বর্ণলতা, র্যাফ্লেসিয়া, আলুর পচনশীল রোগ সৃষ্টিকারী ফাইটোপথোরা ও গমের মরিচা রোগ সৃষ্টিকারী পাকসিনিয়া ছত্রাক হল পূর্ণ পরজীবী উদ্ভিদ। শ্বেতচন্দন, লোরানথাস, ভিসকাম প্রভৃতি আংশিক পরজীবী উদ্ভিদ।
পরজীবী উদ্ভিদের পুষ্টি প্রক্রিয়াকে পরজীবী পুষ্টি বলে।
যে প্রক্রিয়ায় কোনো সজীব পোষকের দেহ থেকে পুষ্টিরস শোষণ করে পুষ্টি সম্পন্ন করার ফলে পোষক ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং পরজীবী উপকৃত হয়, তাকে পরজীবীয় পুষ্টি বলে।
৩৷ মিথোজীবী বা অন্যান্যজীবী
যে পুষ্টির জন্য এক জীব অন্য কোনো জীবের সাহচর্যে জীবন ধারণ করে পরস্পর উপকৃত হয়, তাকে মিথোজীবী বা অন্যান্যজীবী বা সিমবায়োটিক বলে।
মিথোজীবী পুষ্টি দু রকমের হয়
১৷ ব্যতিহারী( Mutualism )
২৷ সহভোক্তা ( Commensalism )
ব্যতিহারীঃ এই রকম পুষ্টিতে দুটি জীব সহাবস্থান করে পরস্পরের সাহায্যে পুষ্টি সম্পন্ন করে,
যেমন – লাইকেন।
সহভোক্তাঃ এই রকম পুষ্টিতে দুটি জীব সহাবস্থানে থেকেও পরস্পর পৃথক ভাবে পুষ্টি সম্পন্ন করে,
যেমন – পরাশ্রয়ী উদ্ভিদ রাস্না, গজপিপুল ইত্যাদি।
যে পুষ্টি প্রক্রিয়ায় দুটি ভিন্ন ধরনের জীব পরস্পরের উপর নির্ভরশীল হয়ে বসবাস করে, তাকে মিথোজীবীয় পুষ্টি বলে।
৪৷ পতঙ্গভুক
যে সব উদ্ভিদ নাইট্রোজেন ঘটিত প্রোটিন খাদ্যের জন্য পতঙ্গ ধরে পতঙ্গের দেহ থেকে পুষ্টিরস শোষণ করে পুষ্টি সম্পন্ন করে, তাদের পতঙ্গভুক উদ্ভিদ বলে।
যেমন – কলসপত্রী, সূর্যশিশির, পাতাঝাঁঝি ইত্যাদি।
|
বৈশিষ্ট্য |
স্বভোজী |
পরভোজী |
|
১৷ স্বনির্ভরতা |
১৷ স্বভোজী জীবেরা পুষ্টি বিষয়ে সনিরভর। |
১৷ পরভোজী জীবেরা পুষ্টির বিষয়ে আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে পরনির্ভর। |
|
২৷ খাদ্য উপাদান সংগ্রহ |
২৷ এরা পুষ্টির জন্য পরিবেশ থেকে তরল ও গ্যাসীয় অবস্থায় সরল অজৈব উপাদান সংগ্রহ করে। |
২৷ এরা পুষ্টির জন্য কঠিন ও জটিল খাদ্যও গ্রহণ করতে পারে। |
|
৩৷ নিজদেহে খাদ্য সংশ্লেষ |
৩৷ পরিবেশ থেকে অজৈব উপাদান সংগ্রহ করে এরা নিজেদের দেহে খাদ্য সংশ্লেষ করে। |
৩৷ এরা নিজেদের দেহে খাদ্য সংশ্লেষ করতে পারে না, তাই এদের পুষ্টির জন্য অন্য কোনো স্বভোজী জীব কিংবা মৃত জৈব বস্তুর অপর নির্ভর করতে হয়। |
|
৪৷ ক্লোরোফিলের উপস্থিতি এবং সালোকসংশ্লেষ |
৪৷ এরা সাধারণত ক্লোরোফিলের সাহায্যে ও সূর্যালোকের উপস্থিতিতে সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় খাদ্য সংশ্লেষ করে। |
৪৷ এদের দেহে ক্লোরোফিল না থাকায় এরা সালোকসংশ্লেষ করতে পারে না। তাই পুষ্টির জন্য সরাসরি সূর্যালোকের উপর নির্ভর করে না। |
|
বৈশিষ্ট্য |
মৃতজীবী |
পরজীবী |
মিথোজীবী |
|
১৷ স্বনির্ভর |
১৷ এরা পুষ্টির জন্য মৃত ও পচনশীল জৈব ও অজৈব পদার্থের ওপর নির্ভরশীল। |
১৷ এরা পুষ্টির জন্য সজীব পোষকের ওপর নির্ভরশীল। |
এই পুষ্টির জন্য সহাবস্থানকারী দুটি জীব পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল। |
|
২৷ খাদ্য গ্রহণ |
২৷ এরা মৃত অজৈব ও জৈব পদার্থ থেকে জটিল বা অর্ধ জটিল খাদ্যরস শোষণ করে। |
২৷ এরা সজীব পোষক দেহ থেকে সরল খাদ্য শোষণ করে। |
২৷ এক্ষেত্রে দুটি জীব পরস্পরের মাধ্যমে সরল খাদ্য শোষণ করে। |
|
৩৷ ক্ষতিসাধন |
৩৷ মৃতজিবীরা পোষকের কোনো ক্ষতি করে না, কারণ এক্ষেত্রে পোষক মৃত। |
৩৷ এরা পোষকের ক্ষতি করে এবং নিজেরা উপকৃত হয়। |
৩৷ এক্ষেত্রে উভয় জীবই উপকৃত হয়, সাধারণত কেউ কার ক্ষতি করে না। |
|
৪৷ পুষ্টি প্রক্রিয়া |
৪৷ এদের পুষ্টি প্রক্রিয়াকে মৃতজীবীয় পুষ্টি বলে। |
৪৷ এদের পুষ্টি প্রক্রিয়াকে পরজীবীয় পুষ্টি বলে। |
৪৷ এদের পুষ্টি প্রক্রিয়াকে মিথোজীবীয় পুষ্টি বলে। |
পাঁচটি অধাতব মৌল উপাদানের নাম ও তাদের উৎস
|
অধাতব মৌলের নাম |
উৎস |
পুষ্টিতে ভূমিকা |
|
কার্বন( C ) |
১৷ প্রধান উৎস বায়ুমণ্ডলের ২৷ স্থলজ উদ্ভিদ প্রধানত পত্ররন্ধ্রের মাধ্যমে বায়ুমণ্ডল থেকে ৩৷ জলজ উদ্ভিদ সমগ্র দেহতল দিয়ে জলে দ্রবীভূত |
কার্বন উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় খাদ্য উৎপাদনের জন্য এবং প্রোটোপ্লাজম গঠনের জন্য প্রয়োজন। |
|
হাইড্রোজেন( H ) |
১৷ জল হাইড্রোজেনের প্রধান উৎস। ২৷ স্থলজ উদ্ভিদ মাটির কৈষিক জল মূলরোম দ্বারা শোষণ করে। ৩৷ জলজ উদ্ভিদ জলে দ্রবীভূত হাইড্রোজেন সমগ্র দেহতল দ্বারা শোষণ করে। |
উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় খাদ্য উৎপাদনের জন্য এবং প্রোটোপ্লাজম গঠনের জন্য এই উপাদানের প্রয়োজন। |
|
অক্সিজেন( O ) |
১৷ অক্সিজেনের প্রধান উৎস হল বায়ুমণ্ডল। ২৷ স্থলজ উদ্ভিদ বায়ু থেকে আণবিক অক্সিজেন গ্রহণ করে। ৩৷ জলজ উদ্ভিদ জলে দ্রবীভূত অক্সিজেন গ্রহণ করে। |
শ্বসন ক্রিয়ায় খাদ্যবস্তু জারণের জন্য এবং সালোকসংশ্লেষের সময় অঙ্গার আত্তীকরণের জন্য এই উপাদানের প্রয়োজন হয়। তাছাড়া কোষের বিভিন্ন জৈব উপাদান গঠনের জন্যও এই উপাদানের প্রয়োজন হয়। |
|
সালফার( S ) |
১৷ স্থলজ উদ্ভিদ মৃত্তিকা স্থিত সালফেট লবন মূলের সাহায্যে শোষণ করে। ২৷ জলজ উদ্ভিদ জলে দ্রবীভূত সালফেট লবন সমগ্র দেহতলের সাহায্য গ্রহণ করে। |
উদ্ভিদের মূল অংশের বৃদ্ধিতে এবং দেহে শর্করা জাতীয় খাদ্য চলাচলে সহায়তা করে। সালফারের অভাবে কাণ্ড দুর্বল হয়। |
|
ফসফরাস( P ) |
১৷ স্থলজ উদ্ভিদ মৃত্তিকা স্থিত ফসফেট লবন মূলের সাহায্যে গ্রহণ করে। ২৷ জলজ উদ্ভিদ জলে দ্রবীভূত ফসফেট লবন সমগ্র দেহতলের সাহায্য গ্রহণ করে। |
শ্বসনে, কোষ বিভাজনে এবং নিউক্লিয়াস গঠনে এই উপাদান সহায়তা করে। ফসফরাসের অভাবে উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। পাতা নীলাভ সবুজ বর্ণের হয়। |
থিয়ামিন
। ৷